ছাত্রদলের নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার © সংগৃহীত
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ছাত্রদল নেতা মো. জামাল উদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী।
আজ শুক্রবার (৬ জুন) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন।
তিনি অভিযোগ করেন, চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা আমিনুল ইসলাম রাজীবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে প্রবাসী রিয়াজের সঙ্গে একটি তর্কাতর্কিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামাল উদ্দিন বলেন, রিয়াজ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দলটির পক্ষে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। প্রতিবেশী হিসেবে বিষয়টি তাকে জানিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু রিয়াজ তাতে কর্ণপাত না করে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হন।
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা
তিনি জানান, গত ৩ জুন রাতে উপজেলার ভূঁইয়ারহাট বাজারের ‘রাইট চয়েজ’ নামক একটি দোকানের সামনে রিয়াজের সঙ্গে দেখা হলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। এসময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন রিয়াজের দিকে তেড়ে গেলেও কোনো ধরণের শারীরিক আঘাত বা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পরে একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের কুৎসিত অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই অপপ্রচার শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা নয়, বরং সুবর্ণচরের ছাত্রদলের শক্তিশালী সংগঠনকে দুর্বল করার একটি ষড়যন্ত্র।
এদিকে, যিনি অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেই প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিন নিজেও পরবর্তীতে তার বক্তব্য থেকে সরে আসেন। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান, ছাত্রদল নেতা জামাল উদ্দিন তার কাছ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করেননি। বরং তাদের মধ্যে পূর্বের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল, যা পরে মীমাংসাও হয়েছে।
রিয়াজ উদ্দিন লাইভে আরও বলেন, প্রথমে উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে গণমাধ্যমে তিনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি সঠিক ছিল না। পরে বিষয়টি বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ হিমেলও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘রাইট চয়েজ’ দোকানের সামনে ছাত্রদল নেতা জামাল উদ্দিন রিয়াজকে আওয়ামী লীগের প্রচারে সক্রিয় থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বাকবিতণ্ডা হয়। তবে চাঁদা দাবির মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।