চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। শনিবার রাতে দু’পক্ষ হাটহাজারী থানায় পাল্টাপাল্টি ‘হত্যা চেষ্টা’র অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার মোড়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়।
শনিবার বিকেলে হাটহাজারী মডেল থানায় সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. আল আমিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আর তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বলে জানা যায়। অপরদিকে, শনিবার রাতে ইংরেজী বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আবু হেনা রনি অজ্ঞাত ৩ জনসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করে পাল্টা আরেকটি ‘হত্যা চেষ্টা’ মামলা দায়ের করেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী।
শনিবার রাতে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাংগীর বলেন, দুই পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রথম পক্ষ মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীদের করা মামলায় আসামি করা হয়-চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার হোসেন শুভ, মার্কেটিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শ্রাবণ মিজান, আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মিজান শাইখ, বন ও পরিবেশ বিদ্যা ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাঈদ করিম মুগ্ধ, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শাহিব তানিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আল আমিন শান্ত, আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ফোরকানুল আলম এবং পদার্থবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শফিকুল ইসলাম শাওন। এরা সবাই সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
আর দ্বিতীয় পক্ষ আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের করা মামলার আসামিরা হলেন- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফি, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. আল আমিন ভূঁইয়া, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইমরান হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কনক সরকার,পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের পিয়াস সরকার।
এ ছাড়া আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মির্জা খবির সাদাফ, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রান্ত মল্লিক, সংস্কৃত বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সন্দ্বীপ বিশ্বাস, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মোহন খান এবং একই বর্ষের আরবী বিভাগের অলি উল্লাহ। এরা সবাই নওফেলের অনুসারী সিএফসি পক্ষের হিসেবে পরিচিত।
মামলার বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের সাবেক সহ সভাপতি জামান নূর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এটা এখন বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন এর হাতে। তারা যথাযথ ব্যাবস্থা নিবে আমরা আশাবাদী।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী সিক্সটিনাইনের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মারামারির বিষয়টা আমরা নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করায় আমরাও একই প্রক্রিয়ার অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছি।