ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তারেক রহমান-জ্যাকবের উত্তপ্ত টকশোটি এডিটেড, যা জানা গেল
- টিডিসি ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:০৮ AM , আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:৪১ AM

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের টকশোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট জ্যাকব মিল্টনকে কড়া ও উত্তপ্ত ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোর কথা বলে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে।
ভিডিওটি এডিট করে ছড়ানো হয়েছে বলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন। ফ্যাক্ট চেকাররাও একই দাবি করেছেন। ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোর ইউটিউব চ্যানেলেও ভিডিওটি পাওয়া যায়নি। এটি সুপার এডিট বলে দাবি করেছেন নেতারা। ভিডিওটি দেখুন এখানে।
জ্যাকব মিল্টন নামে ফেসবুক পেজ থেকে ছড়ানো আরেকটি ভিডিও দেখুন এখানে।
এডিট করা ভিডিওতে জ্যাকব মিল্টনকে সেনাবাহিনী নিয়ে সম্প্রতি তারেক রহমানের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়। এ ছাড়া তারেক রহমানকে আশপাশের লোকজন ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভিডিওতে বিএনপির কয়েকজনকে নেতাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালও করা হয়েছে। এতে তাদের ভারতপ্রীতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে বাস্তবে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোর ইউটিউব চ্যানেলে এ ধরনের কোনও ভিডিও নেই।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশের ফ্যাক্ট-চেকবিষয়ক সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দুইটা আলাদা ভিডিও আলাদা করে নিয়ে জ্যাবক মিল্টনের ভিডিও এতে বসানো হয়েছে। বাস্তবে টকশোর ভিডিওটা ঠিক না। তবে জ্যাবক মিল্টন এ ধরনের কথা আলাদাভাবে বলেছেন কিনা, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লিটন এ আর খান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এটা একটা মিথ্যা টকশো! বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা জুম মিটিং এডিট করে অন্য কারো বক্তব্যের সাথে অ্যাড করে দিয়ে তারেক রহমানের সাথে ‘Defamation’ করা হয়েছে! তারেক রহমানের এতোটা খারাপ দিন আসেনি যে, এ রকম টকশো তে যাবেন তিনি!’
আরো পড়ুন: শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনের বৃহত্তর ভূমিকা চান প্রধান উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ২০০৭ সালের পরে থেকে কখনো কোনো টকশোতে যায়নি। তার এতটা ডিমান্ড দুনিয়ার নামকরা মিডিয়াগুলো তাঁকে রিকোয়েস্ট করার পরও কোনো টকশো বা ইন্টারভিউ নিতে পারেনি! তারেক রহমান একটা ব্রান্ডের নাম- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির হাইকমান্ড! তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা কতটুকু দেখেছেন?’
ভিডিওটি সুপার এডিট দাবি করে মাইনুল আহসান লিখেছেন, ‘জ্যাকব মিল্টন দীর্ঘ ১৭ বছর একটা শব্দ করতে শুনি নাই। আজ অকথ্য ও বিশৃঙ্খল ভাষায় নৈতিকতা শিখাচ্ছো। তারেক রহমানের এটা বিভাগীয় প্রোগ্রামে অংশ কেটে এখানে জয়েন্ট করা হয়েছে। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের অংশটুকু আরেকটা টকশো থেকে অ্যাড করা হয়েছে। আমি যতটুকু জানি তারেক রহমান কখনোই টকশোতে অংশগ্রহণ করেন না।’