কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

২০ জুন ২০২০, ১১:০৪ AM

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামালের আজ জন্মদিন। বহুমাত্রিক প্রতিভাময়ী এই নারী আমৃত্যু মুক্তবুদ্ধি চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম করেছেন। আজ তাঁর ১০৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১১ সালের ২০ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

মহীয়সী কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কবি বেগম সুফিয়া কামালের সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার, নারীমুক্তি এবং শিশুতোষ রচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।’

সুফিয়া কামাল ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তার আপোসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কারফিউ উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

‌‌সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

ট্যাগ: কবি
এনআরবি ব্যাংকে চাকরি, আবেদন স্নাতক পাসেই
  • ২৫ জুন ২০২৬
মানবসম্পদ উন্নয়নেই জোর দিচ্ছে সরকার
  • ২৫ জুন ২০২৬
তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত সেই যুবক গণপিটুনিতে …
  • ২৫ জুন ২০২৬
সালিশ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না, সড়কে মিলল হাত-পা কাটা মরদেহ
  • ২৫ জুন ২০২৬
হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ নিয়োগ বাতিল,…
  • ২৫ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের আগে মোবাইলে সতর্কবার্তা গুগলের, ফোন …
  • ২৫ জুন ২০২৬