শিক্ষাবিদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮৭তম জন্মদিন আজ

২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ AM , আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ PM
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ © সংগৃহীত

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সংগঠক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮৭তম জন্মদিন আজ (২৫ জুলাই)। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বইপড়া আন্দোলনের মাধ্যমে ‘আলোকিত মানুষ’ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তার পৈতৃক নিবাস বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কামারগাতি গ্রামে। তার বাবা আযীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন শিক্ষক।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৫৫ সালে পাবনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৭ সালে বাগেরহাটের প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৬০ সালে স্নাতক এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

একই বছর মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সিলেট মহিলা কলেজে কিছুদিন অধ্যাপনা করার পর ১৯৬২ সালে রাজশাহী কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবন শুরু করেন। এরপর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ও ঢাকা কলেজেও শিক্ষকতা করেন।

১৯৭৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। বইপড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরিতে কাজ করে আসছেন। পাঠাগারের স্বল্পতা বিবেচনায় ১৯৯৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমও চালু করেন, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি টেলিভিশনেও তিনি একজন পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। ১৯৭০-এর দশকে উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি শিক্ষামূলক ও বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাহিত্যকর্মও সমৃদ্ধ। প্রবন্ধ, কবিতা, ছোটগল্প, নাটক, অনুবাদ, জীবনী ও সাময়িকী সম্পাদনাসহ বিভিন্ন ধারায় তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ নানা সামাজিক আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০৪ সালে র‌্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কার লাভ করেন। দেশে অ-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া প্রবন্ধ সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের আরও বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

৮৭ বছরে পদার্পণ করেও অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বইপড়া, মানবিক মূল্যবোধ ও আলোকিত সমাজ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

‘প্রেমিকের মানসিক নিপীড়নে’ আত্মহত্যা করেন জবির অথৈ, মারা যা…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
টানা এক মাস প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো অতিরিক্ত সচিব শাহজাহ…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব ও হলদে পাখির দল গঠনের নির্দেশ
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
এইচএসসি ও সমমানের ৫ বিষয়ের পরীক্ষা ফের নিতে চায় আন্তঃশিক্ষা…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কে, যা বললেন আইনমন্ত্রী
  • ২৫ জুলাই ২০২৬