শেখ মুজিবুর রহমান © সংগৃহীত
আজ ১৭ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির নেতৃত্বে স্বাধীনতাসংগ্রামের অগ্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাঙালি জাতির স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সুসংগঠিত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।
এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকার কারণে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯৬৬ সালে তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক জান্তার নির্দেশে তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। তবে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের হাতে শাসনক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের ১ মার্চ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন।
বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তার ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। সেই ভাষণে তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের জন্য জনগণকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে।
দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিকভাবে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হতো। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক বাণী দেওয়া হতো। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে সেই কর্মসূচি আর পালন করা হয় না।