জীবন বাঁচাতে ২০০ কিলোমিটার হেঁটে কিয়েভ পৌঁছেছেন বাংলাদেশের নাটোরের যুবক নুরুল ইসলাম। এখন লক্ষ্য সীমানা পেরিয়ে পোল্যান্ড যাওয়া। নুরুল ইসলাম থাকতেন ইউক্রেনের একটি গ্রাম শেরবানি হিফচকোতে। সেখানে একটি ভেড়ার খামারে কাজ করতেন।
রাশিয়ার হামলার পর নিরাপদ আশ্রয়ের যাওয়ার চেষ্টা করেন নুরুল।কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান খামারের মালিক। প্রথমে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। তাতে রাজি না হলে মালিক পাসপোর্ট আটকে রাখেন। এ অবস্থায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়েই বেরিয়ে পড়েন নূরুল।
পরে ২০০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পৌঁছেন রাজধানী কিয়েভে। তিনি চোখের সামনেই দেখেন বড় বড় ভবন ধসে পড়তে।
আরও পড়ুন- ইউক্রেনে ভারতীয় ছাত্র হত্যার সময়ের ভিডিও প্রকাশ
নূরুল জানান, তখন মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটা। ইউক্রেনে আরো ৪ ঘণ্টা এগিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার মতো। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাগজালনা রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছিলেন। আর অপেক্ষা করছিলেন ট্রেনের জন্য। উদ্দেশ্য, পোল্যান্ডে যাওয়া। তিনি শুনেছেন যে পোল্যান্ড সীমান্তে বাংলাদেশ দূতাবাসের লোকজন বাংলাদেশিদের শনাক্ত করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিচ্ছে। তার পাসপোর্ট নেই। তাকেও যেন গ্রহণ করা হয় সে বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নুরুল জানান, যুদ্ধের প্রথম দিন তার কর্মক্ষেত্র এলাকায় বোমা হামলায় ১৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। চারদিকে হাহাকার। সবাই ছুটছে সীমান্তের দিকে। কেউ কারো দিকে তাকানোর সুযোগ নেই। যে যেভাবে পারছে ট্রেনে চেপে সীমান্তে যাচ্ছে।
তিন বছর আগে ইউক্রেন এসেছিলেন তিনি। বাড়িতে মা তাছলিমা খাতুন, স্ত্রী ডলি খাতুন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ঋণ করে ইউক্রেন আসলেও কাজের সুবিধা করতে পারেন নি নুরুল। এখনো শোধ হয়নি ঋণের টাকা। এর মধ্যে ইউক্রেন ছাড়তে হচ্ছে। অনিশ্চয়তায় রয়েছেন নাটোরের এই যুবক।