শিক্ষক থেকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হয়ে উঠার গল্প

প্রধান আইন কর্মকর্তা
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম   © ফাইল ফটো

সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধ্যয়ন শেষে শিক্ষকতা শুরু করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি।

এর মধ্যে এলএলবি পাসের পর আইন পেশায়ও যুক্ত হন। কলেজটি ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি ঘোষণার পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। পরে আইনজীবী হিসেবে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।

মাহবুবে আলম ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামন্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে লোক প্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে এলএলবি ডিগ্রি নেন তিনি। ছাত্র জীবনে বাম আন্দোলনে যুক্ত মাহবুবে আলম পরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবিধান এবং সংসদীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইসিপিএস) থেকে ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে সাংবিধানিক আইন এবং সংসদীয় প্রতিষ্ঠান এবং পদ্ধতিতে দুটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি আপিল বিভাগের আইনজীবী নিযুক্ত হন ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি এবং ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৩-১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫-২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন মাহবুবে আলম।

২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুবে আলম। তার পর থেকে টানা ১১ বছর তিনি এ দায়িত্বে বহাল ছিলেন।


মন্তব্য