করোনায় মারা যাওয়া তরুণের শেষ বার্তা পড়ে চোখে জল নেটিজেনদের

২৬ এপ্রিল ২০২০, ১০:০৬ PM

© সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩২ বছর বয়সী জন কোয়েলহো। নিউইয়র্কের হাসপাতালে মারা যাওয়ার আগে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য লিখেছিলেন শেষ চিঠি, যা সম্প্রতি সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। সেটি পড়েই চোখে জল এসে গেছে নেটিজেনদের। আবেগঘন মনে সকলে প্রশংসা জানাচ্ছেন যুবককে।

সেই শেষ চিঠিতে জন লিখেছেন, তিনি গর্বিত একজন স্বামী হিসেবে। তিনি গর্বিত তার সন্তানদের পিতা হিসেবে। তার স্ত্রী তার দেখা দুনিয়ায় সবচেয়ে সুন্দর মানুষ আর সবচেয়ে সুন্দর মা। আগামী জীবনে তারা সকলেই প্রাণ খুলে নিজেদের খুশিমতো বাঁচুক, এটাই তার শেষ চাওয়া।

কভিড ১৯-এ আক্রান্ত হওয়া জন কোয়েলহোকে গত মাসে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিত্‍সা শুরু হয়। কিন্তু জনের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল কিছু। করোনা সংক্রমণের ফলে সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। পরে নিউইয়র্কের বড় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। কম বয়সেই হারিয়ে যায় একটি প্রাণ। জনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্ত্রী কেটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্বামীর মরদেহ নিতে, জিনিসপত্র ফিরিয়ে আনতে। তখনই হাতে আসে জনের ফোনটি। সেখানেই তিনি খুঁজে পান শেষ বার্তাটি।

অনেক ছোট বয়স থেকে প্রেম শুরু হয়েছিল জন আর কেটির। পরে সেই প্রেম থেকে গাঁটছড়া বাঁধা। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা এসেছে জীবনে, তবুও সম্পর্কে তার প্রভাব পড়েনি। কেটির গর্ভধারণের সমস্যা থাকায় আইভিএফের মাধ্যমে ছোট দু'টি সন্তানও হয় তাদের। আড়াই বছরের ব্র্যাডিন এবং ১০ মাসের পেনেলোপ। কেটি জানান, করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সমস্ত রকম সাবধানতা নিয়েছিলেন তারা। জনকে কাজের সূত্রে বাইরে যেতেই হতো, কিন্তু জন সব সময় মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করতেন।

মার্চের শেষদিকে কর্মসূত্রেই জন একজন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন। তার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। খুব ক্লান্তি আসে তার, শুরু হয় মাথার যন্ত্রণা। ধরা পড়ে করোনা। সঙ্গে সঙ্গে আইসোলেশনে পাঠিয়ে চিকিত্‍সা শুরু হয় তার। শুরুর দিকে বেশ খানিকটা সাড়া দিলেও পরে অবস্থা খারাপ হয়ে ওঠে। শুরু হয় চূড়ান্ত শ্বাসকষ্ট। আনা হয় নিউইয়র্কে, ব্যবস্থা করা হয়েছিল ভেন্টিলেটরেরও। তবু শেষ রক্ষা হলো না। চিকিত্‍সকরা মনে করছেন, হৃদরোগ থাকার কারণেই লড়াইটা জিততে পারলেন না জন।

স্থানীয় আদালতে ছোটখাটো একটি কাজ করতেন জন। একজন ভালো বাবা ও স্বামী হিসেবে রীতিমতো খ্যাতি ছিল জনের। বুক চিতিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা সকলকে বলতে ভালোবাসতেন জন। সেই প্রেমের কথাই লিখে গেলেন শেষ বার্তাতেও। আর তার শেষ বার্তা পড়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না নেটিজেনরা। ফেসবুকে একজন লেখেন, জনের এই লেখাটি পড়ে চোখ ভিজে গেল।

সূত্র: দ্য ওয়াল।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসছে ইসরায়েল ও লেবানন
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ‘ই-বেইল বন্ড’ মাইল ফলক হিসেবে কাজ কর…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
মার্কা কাহিনী
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সংরক্ষিত আসনে চূড়ান্ত ১৩ নারীর নাম ঘোষণা করল জামায়াত
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের সংকট ‘সংসদের ভেতরে নাই, সংকটটা বাইরে’
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিসিএসে দাপট দেখাচ্ছেন ২৪-২৬ বয়সধারীরা, ত্রিশোর্ধ্ব মাত্র ৫%
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬