করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইতালি সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরও সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বুধবার ইতালিতে রেকর্ড সর্বোচ্চসংখ্যক ১৯৬ জন মারা গেছে। যা একদিন পূর্বে মঙ্গলবার ছিল ৯৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৭ জনে।
নতুন করে আক্রান্তের দিক দিয়েও একদিনে সর্বোচ্চ ছিল গতকাল ২,৩১৩ জন। যা আগের দিনের তুলনায় ১,৩৩৬ জন বেশি। সুস্থ হওয়ার হারও ছিল উদ্বেগজনক গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪১ জন। সব মিলিয়ে বিশ্বের ১২১টি আক্রান্ত দেশের মধ্যে ইতালি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা ১২,৪৬২ জন।
করোনাভাইরাসের কারণে ইতালি এক ভুতুড়ে জনপদে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। হোটেল-রেস্তোরাঁ ফাঁকা। স্টেডিয়াম খালি। কোনো পর্যটক নেই। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দেশটির ছয় কোটি মানুষ। থমকে গেছে গোটা ইতালি। যানবাহন আগের মতো চলাচল না করায় বেড়ে গেছে যাত্রী দুর্ভোগ।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ কন্তে জরুরি খাদ্যসামগ্রী এবং ওষুধের দোকান ব্যতীত সমগ্র ইতালিতে সব ধরনের দোকানপাট, বার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করেছেন। ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী কন্তে লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সফরের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে শহরের প্রধান প্রধান সুপার সপগুলোতে আগের মতো প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দুজন করে একেকবার প্রবেশ করানো হচ্ছে আর এ কারণে সপের সামনে দীর্ঘ লাইন ও প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। রোমের পিয়াচ্ছা ভিট্টোরিওতে সাপ্তাহিক বাজার যেখানে হাজার হাজার কাস্টমার প্রতিদিন আসেন সেখানে বুধবার ছিল প্রায় সবই ফাঁকা। হাতেগোনা কিছু মানুষ দেখা গেছে তবে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে মাত্র দুজন করে। বাজারের ১২টি প্রবেশ পথের মাত্র একটি প্রবেশ পথই খোলা ছিল।