নাগরিকত্ব আইনে বড় পরিবর্তন আনল কানাডা

২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪ PM , আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪ PM
প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি © সংগৃহীত

নাগরিকত্ব আইনে বড় পরিবর্তন আনল কানাডা। নতুন এ আইনটি বিল সি-৩ নামে পরিচিত। যদিও আইনটি এখনো পাশ হয়নি, তবে  এটি কার্যকর হলে বিদেশে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার কানাডীয় বংশোদ্ভূত পরিবার ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এই আইন পাশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব এই আইন সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘বিল সি-৩ আমাদের নাগরিকত্ব আইনের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করবে এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশুদের পরিবারের জন্য ন্যায্যতা আনবে। এই সংস্কার পুরোনো আইনের কারণে বাদ পড়া মানুষদের নাগরিকত্ব দেবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট নিয়ম তৈরি করবে যা আধুনিক পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে বিবেচনা করে। এই পরিবর্তন কানাডার নাগরিকত্বকে শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করবে।’

অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব কানাডা (আইআরসিসি) ব্যাখ্যা করেছে, ২০০৯ সালে বংশগত নাগরিকত্বের ‘প্রথম প্রজন্ম সীমা’ চালু করা হয়েছিল। যার অর্থ, যদি কোনো শিশু কানাডার বাইরে জন্ম নেয় বা দত্তক নেওয়া হয়, এবং তার কানাডিয়ান বাবা-মাও যদি বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া হন, তাহলে সেই শিশু বংশগতভাবে কানাডিয়ান নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে না। একটি বড় সমস্যা তৈরি করেছিল। 

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া কোনো শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কানাডার নাগরিকত্ব পাবে না। যদি তার মা-বাবা কানাডার বাইরে জন্ম নেন বা তাদের দত্তক নেওয়া হয়ে থাকে। তবে বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন যদি কানাডায় জন্মগ্রহণ করে থাকেন বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তখন ওই সন্তান সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্ব পেতে পারে। 

২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অফ জাস্টিস ঘোষণা করে, এই সীমা সংক্রান্ত নাগরিকত্ব আইনের মূল অংশগুলো অসাংবিধানিক।

আরও পড়ুন : ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রামে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআইএলএ) বিলসি-৩ –কে সংসদের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলছে, বিল সি-৩ অবশেষে এই অসাংবিধানিক বাধা দূর করতে চলেছে। বিল সি-৩ পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরোনো বিধিনিষেধের শিকার হওয়া ‘হারানো কানাডীয়দের’ নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কানাডীয় বংশোদ্ভূত অভিভাবক যারা বিদেশে জন্মেছেন বা যাদের দত্তক নেওয়া হয়েছিল, তাদের বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া সন্তান নাগরিকত্ব পাবেন। পাশাপাশি, বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার নাম ‘সাবস্ট্যানশিয়াল কানেকশন টেস্ট’। আইনে উল্লেখযোগ্য সংযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, জন্ম বা দত্তকের আগে পিতা-মাতাকে ১,০৯৫ দিন কানাডায় থাকতে হবে।

এই কঠোরতা বা মানদণ্ডটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের নাগরিকত্ব নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।

আইনটি কার্যকর করার জন্য আদালত ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে, যাতে আইআরসিসি প্রস্তুত হতে পারে। কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৬ সালের কানাডিয়ান নাগরিকত্ব আইনের আওতায় অসংখ্য মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছে বা নাগরিকত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০০৯ এবং ২০১৫ সালের সংশোধনীতে বেশির ভাগের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হলেও, ২০০৯ সালের ‘ফার্স্ট-জেনারেশন লিমিট’ বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় বংশোদ্ভূত পিতামাতার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে রেখেছিল। নতুন বিল সি-৩ সেই পুরোনো জটিলতার অবসান ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলীয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ অগণতান্ত্রিক : সারজিস আলম
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
শপিং ব্যাগের দাম নেওয়া বন্ধে আড়ংকে আইনি নোটিশ
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
বেফাকের ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
ঈদ বোনাস পাননি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা, যা বলছে অধিদপ্তর
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: রাইট
  • ১৫ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence