থাইল্যান্ডের সাবেক রানি সিরিকিত © সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের মা ও দেশটির সাবেক রানি সিরিকিত আর নেই। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। থাই রয়্যাল প্যালেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। এরপর থেকে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সিরিকিত। মৃত্যুর সময় তিনি তার ছেলে এবং তিন মেয়ে রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে সমগ্র থাইল্যান্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজপরিবার ও রাজপ্রাসাদের সদস্যদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে এক বছরের জাতীয় শোক।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল রানি মা সিরিকিতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বাতিলও করেছেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) তার সরকারি মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে স্ট্রোকের পর থেকেই জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যেত রানি সিরিকিতকে। রানি সিরিকিত ছিলেন প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুল্যাদেজের সহধর্মিণী— যিনি থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছেন। ১৯৪৬ সাল থেকে টানা ৭০ বছর রাজত্ব করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে রাজা ভূমিবলের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় তারা দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন।
রাজার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন তাঁর মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রাজকীয় মর্যাদায় আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রানির মরদেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের দুশিত থ্রোন হলে রাখা হবে, এবং রাজপরিবার এক বছরের জন্য শোক পালন করবে।
রানী সিরিকিত প্যারিসে সঙ্গীত অধ্যয়নরত অবস্থায় তার ভবিষ্যৎ স্বামী রাজা ভূমিবলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে তার বাবা ফ্রান্সে থাই রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ব্যাংককে রাজা ভূমিবলের রাজ্যাভিষেক হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ১৯৫০ সালের ২৮ এপ্রিল বিয়ে করেছিলেন তারা।
১৯৬০-এর দশকে তরুণ দম্পতি হিসেবে রানী সিরিকিত এবং রাজা ভূমিবল বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার, প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং এলভিস প্রিসলির সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।
১৯৮০ সালে বিবিসির সাথে একটি সাক্ষাৎকারে, তিনি রাজতন্ত্র এবং থাইল্যান্ডের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের বর্ণনাও দেন, যেখানে রাজতন্ত্রের কঠোর আইন মেনে চলা অব্যাহত রয়েছে। সিরিকিতকে দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ মাতৃত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হত। ১৯৭৬ সাল থেকে তার জন্মদিন ১২ আগস্টকে মাতৃদিবস হিসেবে পালিত হয়। ২০০৮ সালে তিনি পুলিশের সাথে সহিংস সংঘর্ষে নিহত একজন সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীর শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন।
এদিকে সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত জানিয়েছেন, সাবেক রানির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ানের নেতাদের সম্মেলনে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
দেশটির জনগণ বলছে, দাতব্য কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ ও মাতৃত্বের প্রতীকী রূপ হিসেবে থাই জনগণের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন রানি মা সিরিকিত। তার প্রয়াণে পুরো দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে শোক পালন করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন