ভারতে আদালতের নির্দেশনা হিজিবিজি নয়, প্রেসক্রিপশন লিখতে হবে স্পষ্ট করে

০১ অক্টোবর ২০২৫, ০২:৫০ PM
ডাক্তারদের হিজিবিজি হাতের লেখা

ডাক্তারদের হিজিবিজি হাতের লেখা © সংগৃহীত ছবি

ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কমন একটি অভিযোগ তাদের হাতের লেখা কেউ বুঝে না। তাদের হিজিবিজি হাতের লেখা নিয়ে রসিকতা নতুন কিছু নয়। অস্পষ্ট হাতের লেখা পড়তে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয় রোগী, সাধারণ মানুষসহ ফার্মাসিস্টদের। তবে সম্প্রতি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ডাক্তাদের হাতের লেখা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। আদালত বলেছে, ‘পড়তে সুবিধাজনক মেডিকেল প্রেসক্রিপশন পাওয়া রোগীর মৌলিক অধিকার।’কারণ এতে জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত।

সম্প্রতি ধর্ষণ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জাসগুরপ্রীত সিং পুরি এ নির্দেশনা দেন।

বিচারপতি পুরি বলেন, ‘আজকের দিনে প্রযুক্তি ও কম্পিউটার সহজলভ্য, তারপরও সরকারি চিকিৎসকেরা এমন প্রেসক্রিপশন লিখছেন যা কেউ পড়তে পারছেন না, হয়তো কিছু কেমিস্ট ছাড়া। এটা বিস্ময়কর।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মেডিকেল কলেজে হাতের লেখার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালু করতে হবে। তত দিন পর্যন্ত সব চিকিৎসককে প্রেসক্রিপশন স্পষ্টভাবে বড় হাতের অক্ষরে লিখতে হবে।

প্রথমবার নয়, এর আগেও ভারতের আদালত চিকিৎসকদের খারাপ হাতের লেখার সমালোচনা করেছে। ওডিশা হাইকোর্ট চিকিৎসকদের ‘হিজিবিজি লেখনশৈলী’ নিয়ে মন্তব্য করেছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিরা লিখেছিলেন, ‘রিপোর্টগুলো এত বাজে হাতের লেখায় লেখা হয় যে তা বোঝা যায় না।’

ভারতের ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সদস্যবিশিষ্ট ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. দিলীপ বনসালী বিবিসিকে বলেছেন, সমস্যার সমাধানে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বড় শহর ও নগরে অনেক চিকিৎসক ইতিমধ্যেই ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনে গিয়েছেন। কিন্তু গ্রাম ও ছোট শহরে পরিষ্কারভাবে লেখা প্রেসক্রিপশন পাওয়া এখনো কঠিন।

ডা. বনসালীর মতে, ‘এটা সবার জানা যে, অনেক চিকিৎসকের হাতের লেখা খারাপ। তবে তার কারণ, তারা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকেন। বিশেষ করে ভিড়ভাট্টা সরকারি হাসপাতালে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সদস্যদের বলেছি সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রেসক্রিপশন গাঢ় অক্ষরে লিখতে, যাতে রোগী ও কেমিস্ট উভয়েই পড়তে পারেন। একজন চিকিৎসক যদি দিনে সাতজন রোগী দেখেন, এটা করা সম্ভব। কিন্তু দিনে ৭০ জন রোগী দেখলে তা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে।’

তবে গবেষণা বলছে, চিকিৎসকদের হাতের লেখা অন্যদের চেয়ে খারাপ—এমন দাবি প্রমাণিত নয়। তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিষয়টি কেবল সৌন্দর্য বা সুবিধার নয়। একটি প্রেসক্রিপশন অস্পষ্ট হলে বা ভুল বোঝার সুযোগ রাখলে তা ভয়াবহ ফল বয়ে আনতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন (আইওএম) ১৯৯৯ সালের এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটিতে প্রতি বছর অন্তত ৪৪ হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু হয় চিকিৎসা-জনিত ভুলের কারণে। এর মধ্যে ৭ হাজার মৃত্যুর কারণ ছিল চিকিৎসকদের এলোমেলো হাতের লেখা।

সম্প্রতি স্কটল্যান্ডে এক নারী গুরুতর রাসায়নিক আঘাত পান, কারণ শুকনো চোখের সমস্যায় তাঁকে ভুল করে দেওয়া হয়েছিল ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ক্রিম। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, ওষুধ সম্পর্কিত ভুল মারাত্মক ক্ষতি ও মৃত্যু ঘটিয়েছে। তারা জানিয়েছে, হাসপাতালে ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশন চালু হলে এ ধরনের ভুল অর্ধেক কমে আসতে পারে।

ভারতে হাতের লেখাজনিত ভুলে কতটা ক্ষতি হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে অতীতে প্রেসক্রিপশন ভুল বোঝার কারণে বহু স্বাস্থ্য-জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে এবং প্রাণহানিও ঘটেছে।

 সংবাদসূত্র: বিবিসি

 

 

 

 

 

ঈদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ভোলার ইলিশা ঘাটে চরম পরিবহন সংকট, ভাড়া গুণতে হচ্ছে ৫-৬ গুণ
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ভোলায় সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের, আহত ৫
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি যাত্রীদের
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাবির দায়ের কোপে দেবর নিহত
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ঈদের আনন্দ এবং আমাদের আর্থসামাজিক বাস্তবতা
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence