রাখাইনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় জাতিসংঘের জরুরি সতর্কবার্তা

১৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:০০ AM , আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:১৮ PM
রোহিঙ্গা শিশু

রোহিঙ্গা শিশু © আনাদোলু এজেন্সি

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি ‘পূর্ণাঙ্গ বিপর্যয়ে’ রূপ নিতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাখাইনে দ্রুত বেড়ে চলা বাস্তুচ্যুত মানুষদের খাবার সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।

খাদ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে ২০১২ সালের দমন অভিযান ও সংঘর্ষে সর্বস্ব হারানো প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সারাদেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়লেও রাখাইনের পরিস্থিতি এখনও সবচেয়ে খারাপ।

মানুষের হতাশা খাদ্যাভাবে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এপ্রিলে সিত্তে শহরের এক আশ্রয় শিবিরে কীটনাশক পানে একজন আত্মহত্যা করেন। জুনে মারা যান এক রাখাইন পরিবারের পাঁচজন সদস্য। সম্প্রতি অভাবের কারণে আত্মহত্যা করেছেন একজন বৃদ্ধ দম্পতি।

ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সংস্থার বৈশ্বিক তহবিল গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে মিয়ানমারের তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের মাত্র ২০ শতাংশকেই সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রদেশটিতে অভাবগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তহবিল সংকটে এমন অবস্থাতেও মার্চে সংস্থাটি বাধ্য হয়ে রাখাইনে সহায়তা কমিয়েছে।

আরও পড়ুন: স্কুল থেকে দেওয়া খাবার খেয়ে একে একে অসুস্থ ৩৬৫ শিক্ষার্থী

২০২৩ সালে দেশটির সামরিক সরকার আরাকান আর্মির অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ ঠেকাতে রাখাইনের সব বাণিজ্য ও পরিবহন রুট বন্ধ করে দেয়। সিত্তে শহরে এখন কেবল সমুদ্র ও আকাশপথে পৌঁছানো যায়। কৃষকরা মাঠে চাষ করতে পারছেন না এবং রোহিঙ্গাদের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ফলে স্থানীয়দের আয়ের প্রধান পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এক আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা জানিয়েছেন, বাইরে যাওয়া যায় না, কাজ নেই। জিনিসপত্রের দাম পাঁচগুণ বেড়ে গেছে। আয় না থাকায় অনেকেই সেদ্ধ কচু ও লতাপাতা খেয়ে বেঁচে আছে।এছাড়া সামরিক বাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগও সমস্যার অন্যতম কারণ। যে পরিবার কোনো পুরুষকে বাহিনীতে পাঠায়নি, তাদের আর্থিক জরিমানা দিতে হচ্ছে।

ডব্লিউএফপি বলছে, রাখাইনের সব সম্প্রদায়ই গভীর অর্থনৈতিক চাপে আছে। অনেক পরিবার ঋণ নিচ্ছে, ভিক্ষা করছে, সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করছে–এমনকি মানব পাচারেরও শিকার হচ্ছে। সংস্থাটি নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম না বললেও, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের ৮৭ শতাংশ ইউএসএইড তহবিল কমানো পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র একাই ডব্লিউএফপিকে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিল।

গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘ রাখাইনে ‘আসন্ন দুর্ভিক্ষ’ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। ৯ মাস পরও তহবিল ঘাটতি পূরণ না হওয়া এবং নতুন করে সাহায্যের আবেদন জানানোই চলমান সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। খবর বিবিসির।

 

আইসিসির সঙ্গে কী কথা হয়েছিল বিসিবি সভাপতি বুলবুলের?
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
বিড়ি খাওয়ার বক্তব্য দেওয়ায় জামায়াতের ২ কোটির মার্কেটিং হয়…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
হারের পর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সিলেট টাইটান্সের সাবেক উপদ…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
আইসিসি থেকে ‘মিরাকল’ সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা বিসিবি সভাপতির
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
হাসনাত আবদুল্লাহর আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জসিম উদ্দিন
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানব…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬