ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি

২৮ জুন ২০২৫, ০৬:৫৩ PM , আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৫, ০২:২১ PM
ইসরায়েলি বর্বরতায় একরকম মাটিতে মিশে যাওয়া গাজা উপত্যকা

ইসরায়েলি বর্বরতায় একরকম মাটিতে মিশে যাওয়া গাজা উপত্যকা © সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি এ উপত্যকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশের সমান। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের হারেৎজ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহত ফিলিস্তিনির এ সংখ্যা হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। এ মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

হারেৎজ বলছে, ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ পরোক্ষ কারণেও প্রাণ হারিয়েছেন, যেমন অনাহার, ঠান্ডা ও রোগে ভুগে। যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

পত্রিকাটি লিখেছে, ‘গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি মুখপাত্র, সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীরা সাধারণত তাচ্ছিল্য প্রকাশ বা এগুলো অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ক্রমবর্ধমান একটি অংশ বলছেন, এ তালিকা শুধু নির্ভরযোগ্যই নয়; বরং বাস্তবতার তুলনায় হয়তো অনেকটাই রক্ষণশীল।’

হারেৎজের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের হোলোওয়ে কলেজের অর্থনীতিবিদ ও সহিংস সংঘাতে মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষক অধ্যাপক মাইকেল স্পাগাটের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে

গবেষণাটিতে গাজার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে ২ হাজার পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। এর ভিত্তিতে জানা গেছে, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৭৫ হাজার ২০০ মানুষের সহিংস মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

জরিপ অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু।

হারেৎজ বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের অন্যান্য প্রায় সব সংঘাতের সঙ্গে তুলনা করলে এ সংখ্যা ব্যতিক্রমী।

অধ্যাপক স্পাগাট বলেন, এই তথ্য গাজা যুদ্ধকে ‘একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম রক্তক্ষয়ী সংঘাত’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনি আরও বলেন, ‘সিরিয়া, ইউক্রেন ও সুদানে যুদ্ধে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা গাজার তুলনায় হয়তো বেশি। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও যোদ্ধাদের মৃত্যুর হার এবং জনসংখ্যা অনুপাতে মৃত্যুর হারে গাজা সম্ভবত শীর্ষে।’

গবেষণার তথ্য বলছে, গাজায় সহিংস মৃত্যুর শিকার নারী ও শিশুদের অনুপাত প্রায় সব সাম্প্রতিক সংঘাতের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। কসোভোতে এ হার ছিল ২০ শতাংশ, উত্তর ইথিওপিয়ায় ৯ শতাংশ, সিরিয়ায় ২০ শতাংশ ও সুদানে ২৩ শতাংশ।

অধ্যাপক স্পাগাট বলেন, ‘আমার ধারণা, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ ইতিমধ্যে নিহত হয়েছে। একুশ শতকে মৃত্যুর এমন হার আর কোনো সংঘাতে দেখা যায়নি।’

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় নিষ্ঠুরতম সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক মহল বারবারই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলের হামলাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) একটি মামলা চলছে।

সুত্র: হারেৎজ

 

তেহরানে ফের বিস্ফোরণের শব্দ
  • ০১ মার্চ ২০২৬
খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত
  • ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলে নিহত ১, আহত ২০
  • ০১ মার্চ ২০২৬
দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব এখন ‘ধ্বংসাবশেষ’, জেবেল আলি বন্দরেও আ…
  • ০১ মার্চ ২০২৬
উপবৃত্তির প্রলোভনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, অধ…
  • ০১ মার্চ ২০২৬
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: ইরানের প্রতিরোধ শক্তির রূপকার
  • ০১ মার্চ ২০২৬