আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি © সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি একাধিক এক্স/টুইটার পোস্টে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সিদ্ধান্তমূলক বিজয়’ অর্জনের দাবি করেছেন। ইরানের জনগণকে এ বিজয়ের জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক্সে এ বার্তা দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি ইরানের জনগণকে অভিনন্দন জানানো জরুরি মনে করছি- প্রথমত, ভুয়া জায়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন। এত হৈচৈ, এত দাবি-দাওয়ার পরও, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আঘাতে জায়নিস্ট শাসন প্রায় ভেঙে পড়েছে, বিধ্বস্ত হয়েছে।’
খামেনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল যেন ধ্বংস না হয়ে যায়, সেই ভয়েই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়েছিল। তবে যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই পায়নি, বরং এক প্রকার “চড় খেয়েছে”।’
তিনি জানান, আগামী কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি ইরানের জনগণের উদ্দেশে একটি রেকর্ড করা ভাষণ প্রকাশ করবেন, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘বিজয়ের ঘোষণা’ দেবেন।
গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ার পর খামেনির এই পোস্টগুলো সামনে এলো। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় তিনি গোপন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
খামেনির নীরবতায় জনমনে উদ্বেগ, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনিকে নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক আলোচনায় উপস্থাপক মেহদি ফাজায়েলিকে প্রশ্ন করেন—যা দেশের মানুষের মধ্যে চলমান উৎকণ্ঠারই প্রতিফলন।
উপস্থাপক বলেন, “মানুষ সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।” তিনি জানান, এ বিষয়ে দর্শকদের বহু বার্তা এসেছে। তবে খামেনির অফিস প্রধান মেহদি ফাজায়েলি এর সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি। বরং তিনি জানান, সামরিক হামলার পর অনেক সরকারি কর্মকর্তারাও খামেনির অবস্থান ও অবস্থা জানতে চেয়েছেন।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে চরম সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, “যদি আমরা আশুরার আগেও খামেনিকে না দেখি, তবে সেটা খুব খারাপ সংকেত। তাকে অবশ্যই জনসমক্ষে আসতে হবে।”
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি বর্তমানে একটি বাংকারে অবস্থান করছেন এবং সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা এড়াতে ইলেকট্রনিক কোরো যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যবহার করছেন না।