টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের ঐতিহ্য দাবি ভারতের

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০১ PM , আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৫ AM
গুণ ও মানের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে টাঙ্গাইলে উৎপাদিত শাড়ির

গুণ ও মানের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে টাঙ্গাইলে উৎপাদিত শাড়ির © ফাইল ছবি

বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইলের শাড়িকে নিজেদের ঐতিহ্য বলে দাবি করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজ থেকে করা একটি পোস্টে এমন দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ‘টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত, একটি ঐতিহ্যগত হাতে বোনা মাস্টারপিস। এর সূক্ষ্ম গঠন, স্পন্দনশীল রং এবং জটিল জামদানি মোটিফের জন্য বিখ্যাত—এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।’

এছাড়াও প্রতিটি টাঙ্গাইল শাড়িই দক্ষ কারুকার্যের প্রমাণ, নির্বিঘ্নে ঐতিহ্য এবং কমনীয়তাকে একত্রিত করে বলেও দাবি করা হয়েছে দেশটির একই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো কুটিরশিল্প। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় তৈরি হয় বলে এর নামকরণও করা হয়েছে জেলার নামেই।

বর্তমানে টাঙ্গাইল শাড়ির নামে এখনও কোনও জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশনস) পেটেন্ট আন্তর্জাতিক স্তরে নথিভুক্ত হয়নি। ফলে কলকাতার ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নিয়ে টাঙ্গাইল শাড়িকে ফুলিয়ার পণ্য বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: রুপিতে লেনদেনের যুগে বাংলাদেশ-ভারত

এর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে তৎকালীন ভারতবর্ষের টাঙ্গাইলে তাঁত শিল্পের ব্যাপ্তি প্রসারিত হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির তাঁতিরা মূলত ঐতিহ্যবাহী মসলিন তাঁত শিল্পীদের বংশধর। তাদের আদি নিবাস ছিল বর্তমান ঢাকা জেলার ধামরাই ও চৌহাট্টায়। তারা দেলদুয়ার, সন্তোষ ও ঘ্রিন্দা এলাকার জমিদারদের আমন্ত্রণে টাঙ্গাইল যায় এবং পরবর্তীতে সেখানে বসবাস শুরু করে।

শুরুতে তারা নকশাবিহীন কাপড় তৈরি করা হলেও ১৯০৬ সালে মহাত্মা গান্ধী স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) এর তাঁত শিল্পের প্রসার লাভ করে। এরপর ১৯২৩-২৪ সালে তাঁতের কাপড়ে নকশা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৩১-৩২ সালে শাড়ি তৈরির জন্য জাকুয়ার্ড তাঁত প্রবর্তন করা হয়।

টাঙ্গাইল তাঁতশিল্প এর একক বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদ্ধৃত। টাঙ্গাইল শাড়ির তাঁতিরা বিশেষ দক্ষতার মাধ্যম এ শাড়ি তৈরি করেন। জেলার পাটাইল ইউনিয়নের বসাক সম্প্রদায় সব থেকে পুরোনো সম্প্রদায় যারা এখনও আদি ও ঐতিহ্যগতভাবে সাথে তাঁতের শাড়ি তৈরি করেন। এই শাড়ি তারা বাজিতপুর ও করটিয়া হাটে সপ্তাহে দুই দিন বিক্রি করেন।

সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯২ সালে টাঙ্গাইল জেলায় ১ লাখের অধিক তাঁত ছিল এবং এখানে কর্মরত ছিলেন ১ লাখ ৫০ হাজারের মতো তাঁতী। তারা জেলার সদর, কালিহাতি, নাগরপুর ও বসিল উপজেলায় বসবাস করত। তবে বর্তমানে জেলায় ৩ লাখ ২৫ হাজারের মতো তাঁতী, মালিক ও ব্যবসায়ী-ক্রেতা এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। মানভেদে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় শাড়িগুলো।

বিশ্বজোড়া খ্যাতির কারণে টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি রপ্তানি হয় ভারত, আমেরিকা, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই প্রতি সপ্তাহে রপ্তানি হয় প্রায় ৫০ হাজারের মতো শাড়ি। তবে বর্তমানে তাঁত, রং ও অন্যান্য কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পরিবহণ সুবিধার অব্যবস্থাপনার কারণে টাংগাইল তাঁতশিল্প ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারাল মাদ্রাসাছাত্র ইয়ামিন
  • ২২ মে ২০২৬
৪৫ মণের ‘ঠান্ডা ভোলা’র দাম ১২ লাখ, ‘দাদা ভাই’ ডাকলে সাড়া দে…
  • ২২ মে ২০২৬
চোট এড়াতে জেমিনির সহায়তা নেবেন মেসিরা
  • ২২ মে ২০২৬
পুকুরে গোসলে নেমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর …
  • ২২ মে ২০২৬
চার বছর প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের আসরে যুবকের বিষপান
  • ২২ মে ২০২৬
অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা ক…
  • ২২ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081