বেরোবির কান্না কেউ কি শুনবেন?

২২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫০ PM
বেরোবির কান্না কেউ কি শুনবেন?

বেরোবির কান্না কেউ কি শুনবেন? © টিডিসি ফটো

উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এ বছর নভেম্বরে এগার বছর পূর্ণ করে বার বছরে পদার্পণ করেছে। গত প্রায় এক যুগে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরবঙ্গ তথা বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে যে ভূমিকা পালন করছে তা বোধহয় কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা ইতিবাচক অর্জনের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়টি যতটুকু না গণমাধ্যাম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে এর অভ্যন্তরীণ নানান নেতিবাচক বিষয়গুলোর কারণে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে পাঠকের সামনে একটি বিষয়ে অবতারণা করার প্রয়াসে এ লেখা।

প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী, ১৮৯ জন শিক্ষক, ১৩১ জন কর্মকর্তা ও চারশত কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত বেরোবি পরিবারের বয়স এক যুগ হতে চলেছে। কিন্তু এক যুগেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি ও তাঁদের সংগঠনগুলোর মধ্যে যে এক ধরনের পেশাদারিত্ব তৈরি হবার কথা থাকলেও তা আজও কিছুটা অনুপস্থিত। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ স্বার্থের দ্বন্দ্ব। মূলত অভ্যন্তরীণ স্বার্থের দ্বন্দ্বই পেশাদারিত্বের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যাকে বাইরে গিয়ে বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করে। এর পেছনে একটিমাত্র উদ্দেশ্য কাজ করে। তা হলো- চাঞ্চল্য তৈরি করে বিরোধী পক্ষকে বিপদে ফেলা এবং তার মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল করা। যার পরিণতিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি নিয়ে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভুলুণ্ঠিত ভাবমূর্তি নিয়ে কারো যেন ভাববার সময় নেই। কিন্তু বেরোবি আজ কাঁদছে। বারবার অপপ্রচারের শিকার বেরোবি এভাবে আর কতদিন কাঁদবে। কেউ কি শুনবেন বেরোবির এ ভাবমূর্তি সংকটের কান্না?

জনগণের করের টাকা তথা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এখনো আমরা তাকিয়ে থাকি ভাল কিছু শুনবার জন্য। ভাল কিছু অর্জনের খবর পেলে আপ্লুত হই। আর খারাপ কিছুর খবর পেলে ভীষণ রকমের মনঃক্ষুণ্ণ হই। কেননা বিত্তহীন-নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সবার একটি আশার জায়গা হলো এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যে কারণে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে সকল মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ঘটনায় নিজেকে সম্পৃক্ত মনে করে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যম যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। আর এই সুযোগটিকে ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কতিপয় সুযোগসন্ধানী। তারা বারবার যা খবর নয় তাকে খবর হিসেবে তুলে ধরবার চেষ্টা করে। আর এটি করতে গিয়ে তারা যেন ওঁৎ পেতে থাকে। সবসময় একই প্রচেষ্টা চালায়। কেমন করে কাকে বিপদে ফেলে গণমাধ্যমগুলোর জন্য সংবাদ যোগান দেওয়া যায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খবর সংঘটনের জন্য তাদের যেন অপেক্ষা করবার সময় নাই বরং খবর তৈরি করো। এর জন্য যা কিছু করার দরকার তাই করো- এই হলো তাদের মনোভাব। প্রয়োজন হলে সহকর্মীকে বলির পাঠা বানাও। তারপরও তাদের খবর চাই। চাঞ্চল্য চাই। আর চাই সবসময় পাদপ্রদীপের অলোয় থাকতে।

গুটি কয়েক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বারবার জলাঞ্জলি দিচ্ছে শুধু তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করবার উদ্দেশ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যত রকমের অপপ্রচার চালু রয়েছে তার পেছনে তাকালে দেখা যায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বারবার ওই গুটিকয়েক ব্যক্তিই জড়িত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির দিকে সামান্যতম নজর না দিয়ে তারা ক্রমাগতভাবে নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এ ধরনের নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা চায় না। আজ বেশিরভাগ বেরোবি শিক্ষার্থী তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেরোবি নিয়ে প্রচার-প্রচারণার বিষয়গুলো ঘেঁটে মনে হয়েছে শিক্ষার্থীরা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়। কেননা তারা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ববোধ করতে চায়। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তাঁদেরকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়- তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তো শুধু আন্দোলন চলে; তোমাদের তো কোন ক্লাস-পরীক্ষা হয় না; তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তো শতেক দোষ। চাইলেও তাঁরা এর কোন সদুত্তর দিতে পারে না।

সময় এসেছে বেরোবি পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের এ কান্নার দিকে মনযোগ দেওয়ার। আমরা যদি অপপ্রচার বন্ধ করতে পারি তবে শিক্ষার্থীদের মনোবল চাঙ্গা হবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়বে। বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করুন। বেরোবির ভাবমূর্তি সংকটের এ কান্না থামাতে আমরা যদি ভূমিকা পালন করতে পারি তবেই থামানো যাবে এ কান্না।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

বিয়ের প্রথম বছরে পুরুষের পাঁচ কাজ করা জরুরি
  • ১১ মে ২০২৬
সম্পর্কের বিচ্ছেদ, ছাত্রী হোস্টেলের সামনে প্রেমিকের বিষপান
  • ১১ মে ২০২৬
অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ১১ মে ২০২৬
মা দিবসে ছেলের হাতে মা খুন
  • ১০ মে ২০২৬
দিনাজপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিব-ট্যা…
  • ১০ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে জাতীয় সেমিনার ও শিক্…
  • ১০ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9