স্যার-ভাই কোনো ডাকেই আমার আপত্তি নেই— ঢাবি শিক্ষক

স্যার-ভাই কোনো ডাকেই আমার আপত্তি নেই— ঢাবি শিক্ষক
  © টিডিসি ফটো

আমাকে মানুষ ভাই ডাকে, স্যার ডাকে। কোন ডাকেই আমার আপত্তি নেই। যে যা ডেকে আরাম পাচ্ছে পাক। কেউ ভালবেসে স্যার ডাকলে সমস্যা নেই। কেউ ভাই ডাকলো কিন্তু শ্রদ্ধা করলো মন থেকে, কোন সমস্যা নেই।

কেউ একটু মজা নিতে ভাই ডাকলো, তাতেও ঝামেলা নেই। কারণ আমার সম্মান আল্লাহর হাতে, কারো মজা নেয়ার হাতে না। কেউ কেউ ভাই ডেকে যদি পরে জানে আমি শিক্ষক, সাথে সাথেই স্যার ডাকে। কেউ কেউ স্যার ডেকে পরে যখন আমার সাথে জমে যায়, তখন ভাই ডাকে।

আমি বুদ্ধিজীবীদের সমাজ আর আমলাতন্ত্র একদম পাশাপাশি রেখে এবং দেখে বড় হয়েছি। আমি দেখেছি অনেক মানুষ সামনে স্যার ডেকে পিছনে গালি দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন এক অধ্যাপককে এক সাংবাদিককে ভাই বলে ডাকতে দেখেছি। সেই একই সাংবাদিককে আবার আরেকজন অধ্যাপককে স্যার বলে ডাকতে দেখেছি। আমি দেখেছি অনেক আমলা অবসরে যাওয়ার পরের দিন স্যার থেকে ভাই হয়ে যান।

ক্ষমতাধর ব্যবসায়ীর সামনে সর্বোচ্চ আমলা এবং অধ্যাপক কখনো কখনো অমুক ভাই, আবার কখনো স্যার। আবার বয়োকনিষ্ঠ প্রতিমন্ত্রীকে শুনেছি তাঁর মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সচিব স্যার বলে ডাকতে।

রাজনীতির সাথে যারা জড়িত এবং পদধারী, তারা অনেক সচিবকে ভাই বলে, আইজিকে ভাই বলে ডাকে। সচিব আর আইজি রাগ করেন না। করলেও বলেন না। অথবা বলেন।

আবার যেমন সদ্যপ্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান অথবা জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর কথা বলা যায়। তাঁরা সবার স্যার৷সব শ্রেণিপেশার মানুষের স্যার। সব পেশার স্যারদের স্যার।

আবার সদ্যপ্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদের কথা বলা যায়। তাঁর নামের আগেই লাগানো আছে স্যার। তবে তিনি সবার আবেদ ভাই৷ তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও তিনি ভাই।

কিংবদন্তি হতে স্যার বা ভাই ডাক লাগেনা। কাজ লাগে। ভালো আচরণ লাগে। শিক্ষক-আমলা এই দুই শ্রেণির স্যার অথবা ভাইদের চিন্তার কিছু নেই। কারণ মানুষের মুখের ডাকে, বাধ্য ডাকে, ভয়ের ডাকে সম্মান নেই। হৃদয় থেকে যা ডাকবে, তাতেই সম্মান, তাতেই প্রাপ্তি। কাজের মাঝেই সম্মান। আর আল্লাহ যখন যাকে খুশি সম্মানিত করেন, যার থেকে খুশি তা কেড়ে নেন।

লেখক: প্রভাষক, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ