ইসলামী ছাত্র শিবিরের পঞ্চম জয়: একটি ট্র্যাডিশনের জন্ম

০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ AM
 সাবিনা আহমেদ

সাবিনা আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত জোট পঞ্চমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেছে। এটি শুধু একটি নির্বাচনি সাফল্য নয়; বরং দেশের যুবসমাজে চলমান গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বরে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রনীতি ও ইতিহাস বিশেষজ্ঞ সাবিনা আহমেদ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  ক্যাম্পাসগুলোতে এই জয়গুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলগুলো শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছে সংগঠিত প্রচারণা, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, পজিটিভ প্রচারণা, এবং যুবকদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

সাবিনা আহমেদ বলেন, এই পঞ্চম জয় কোনও সাধারণ জয় না, বরং তার চাইতেও অনেক বড় কিছু, একটি ট্রাডিশনের জন্ম। প্রথম জয় থেকে পঞ্চম জয় আমাদের যা দেখায়- প্রথম জয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: এটাকে হয়তো বলা যেত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। হয়তো সাময়িক পরিস্থিতি বা ভাগ্যের খেলা। ক্যাম্পাসে শিবিরের প্রথম সাফল্যকে অনেকে এভাবেই দেখেছিল একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু এই জয়ের মূল কারণ ছিলো সুচিন্তিত প্রচারণা, ছাত্র সহায়তা কর্মসূচি, জুলাই বিদ্রোহের লিঙ্ক এবং ইতিবাচক রাজনীতি। 

তিনি বলেন, দ্বিতীয় জয়, জাহাঙ্গীরনগর বিষবিদ্যালয়: এখানে আসে সম্ভাবনার সূচনা। প্রথমটাকে যদি ভুল ধরে নেওয়া যায়, তাহলে দ্বিতীয়টায় সবাই ভাবতে শুরু করে: “হয়তো এখানে কোনো প্যাটার্ন লুকিয়ে আছে? শিবির কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে?” এটি ছিল সন্দেহ এবং কৌতূহলের মিশ্রণ। এখানে কাজ করেছে শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস, ক্যান্ডিডেটদের উদারতা এবং সংগঠনশীলতা। 

এ ইতিহাস বিশেষজ্ঞ বলেন, তৃতীয় জয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: এখন এটি হয়ে ওঠে একটি উদাহরণ। তিনবার জিতলে আর বলা যায় না যে এটি কাকতালীয়। শিবিরের সংগঠনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং যুবকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি অন্য ক্যাম্পাসগুলোর জন্য একটি মডেল হয়ে দাঁড়ায়। জয়ের মূল কারণ ছিলো ইসলামী মূল্যবোধ এর প্রতি ব্যাপক সমর্থন এবং পূর্ববর্তী মোমেন্টাম। 

চতুর্থ জয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: চারবার জিতলে তা পরিণত হয় একটি ট্রেন্ডে। এখন এটি আর অস্থায়ী নয়—এটি একটি প্রবণতা, যা দেখিয়ে দেয় যে বাংলাদেশের যুবসমাজে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বাড়ছে। শিবিরের জয়গুলো ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। এই জয়ে কাজ করেছে ক্যান্ডিডেটদের মোরাল ক্যারেক্টার, দুর্নীতি-মুক্ত প্রচার এবং জাতীয় পরিবর্তনের সংকেত। 

পঞ্চম জয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: আর পঞ্চমবার জিতলে? এটি হয়ে ওঠে একটি ট্র্যাডিশন—যার পথ অনুসরণ করা হয়। এখন শিবিরের সাফল্য আর অস্থায়ী ট্রেন্ড নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য। এটি দেখিয়ে দেয় যে শিক্ষার্থীরা শিবিরের নেতৃত্বে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এবং এই জয়গুলো ভবিষ্যতের ক্যাম্পাস রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিবে। এই জয়ের পিছনে ছিলো শক্তিশালী ক্যাম্পেইন এবং আদর্শের আকর্ষণ। 

তিনি আরও বলেন, এ পঞ্চম জয় শুধু শিবিরের জন্য নয়, বাংলাদেশের যুবশক্তির জন্যও একটি মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে, আদর্শ, সংগঠন এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই ট্র্যাডিশন কীভাবে বিকশিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। শিক্ষার্থীদের এই উত্থান দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন আলোয় আলোকিত করবে।

দেশের একাধিক জেলায় বজ্রবৃষ্টির  সম্ভাবনা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
পে-স্কেল ও জাতীয়করণসহ ১০ দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূ…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জা…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
জবির বাসে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নিন্দা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
দেড় বছরেও মেরামত হয়নি কবি নজরুল কলেজের জানালার ভাঙা কাচ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬