উপাচার্য নিয়োগের স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ PM
অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম © টিডিসি সম্পাদিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বৈঠকে (২ মার্চ ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে যে স্ট্যান্ডার্ড বা আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার একটি আধুনিক রূপরেখা। এই মানদণ্ড অনুযায়ী, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর বিশ্ববিখ্যাত জার্নালে গবেষণাপত্রের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক একাডেমিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন তৈরির ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রচলিত প্যানেল নির্বাচনের বাইরেও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ একজনকে বাছাই করার যে বৈশ্বিক রীতি রয়েছে, সরকার সেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে বদ্ধপরিকর।

বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র নয়, এটি একটি জাতির মেধা গঠন ও সামাজিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে উপাচার্য বা ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) পদের গুরুত্ব অপরিসীম। ঐতিহাসিক কাল থেকেই এই পদের সংজ্ঞা এবং কার্যপরিধি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে এই পদটিকে সাধারণত ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, যেখানে চ্যান্সেলর পদটি মূলত একটি আলংকারিক বা আনুষ্ঠানিক পদ হিসেবে গণ্য হয়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে উপাচার্যই হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (Chief Executive Officer), যিনি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের জবাবদিহি করে থাকেন। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশে উচ্চশিক্ষার এই শীর্ষ পদটিকে ‘প্রেসিডেন্ট’ বা ‘রেক্টর’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সময় একটি বিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সিস্টেমের প্রধানকে চ্যান্সেলর বলা হয়, যেখানে প্রতিটি স্বতন্ত্র ক্যাম্পাসের প্রধানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্কটল্যান্ড ও কানাডার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রিন্সিপাল’ উপাধিটি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে, যেখানে ব্যক্তি একই সাথে প্রিন্সিপাল এবং ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই নামকরণের বৈচিত্র্য কেবল প্রশাসনিক পরিভাষা নয়, বরং এটি সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা দর্শন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়। যেমন ফিনল্যান্ড বা জার্মানিতে রেক্টর পদটি ঐতিহাসিকভাবে শিক্ষকদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার একটি ঐতিহ্য বহন করে, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসনকে নির্দেশ করে। 

আধুনিক যুগে উপাচার্যের ভূমিকা কেবল একটি প্রথাগত প্রশাসনিক পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২১ শতকের বিশ্বায়িত শিক্ষাব্যবস্থায় একজন উপাচার্যকে একই সঙ্গে একজন প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ, দক্ষ কূটনীতিক ও কর্পোরেট নির্বাহীর ভূমিকা পালন করতে হয়। তাকে বিশাল বাজেট ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদের নামকরণের কাঠামোগত ভিন্নতা সত্ত্বেও উপাচার্যের মূল উদ্দেশ্য হলো একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন করা। বর্তমান সময়ের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় এই নেতৃত্বের সক্ষমতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা (Transparency) ও গোপনীয়তা (Confidentiality)-এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং। এজিবি সার্চ (AGB Search) ও আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (AAUP)-এর মতো সংস্থাগুলোর মতে, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি প্রধান মডেল প্রচলিত রয়েছে: উন্মুক্ত, বদ্ধ ও হাইব্রিড অনুসন্ধান। উন্মুক্ত অনুসন্ধান (Open Search) প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর আবেদন থেকে শুরু করে শর্টলিস্ট পর্যন্ত সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। এর সমর্থকদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি সব অংশীজনকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সুযোগ দেয়। তবে এর একটি বড় নেতিবাচক দিক হলো, অনেক যোগ্য ও উচ্চপদস্থ প্রার্থী তাদের বর্তমান কর্মস্থলে জটিলতা তৈরির আশঙ্কায় জনসমক্ষে নাম প্রকাশ করতে চান না, যা অনেক সময় প্রার্থীর তালিকা ছোট করে ফেলে। অন্যদিকে, বদ্ধ অনুসন্ধান (Closed Search) প্রক্রিয়ায় কেবল একটি নির্দিষ্ট সার্চ কমিটি প্রার্থীর তথ্য জানতে পারে এবং নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো নাম প্রকাশ করা হয় না। এই পদ্ধতির মূল সুবিধা হলো এটি প্রার্থীর গোপনীয়তা রক্ষা করে একটি মানসম্মত ও বিশাল প্রার্থীর তালিকা নিশ্চিত করতে পারে। তবে AAUP-এর মতো সংগঠনগুলো মনে করে, এই ধরনের গোপনীয়তা একাডেমিক সম্প্রদায়ের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এটি অনেক সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়। হাইব্রিড মডেল (Hybrid Search) একটি মধ্যপন্থা হিসেবে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান গোপন রাখা হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ২-৩ জন প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে আনা হয় এবং তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়। এই মডেলে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হয়। 

সার্চ কমিটির গঠন উপাচার্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ট্রাস্টি বোর্ড, ফ্যাকাল্টি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি কেবল আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই করে না, বরং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও বর্তমান চ্যালেঞ্জের সাথে প্রার্থীর সামঞ্জস্যতা নিরূপণ করে। বিশেষ করে বৈচিত্র্য (Diversity) ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusivity) মনোভাব সম্পন্ন নেতৃত্ব নির্বাচন করা এখন বৈশ্বিক মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নৈতিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সার্চ ফার্ম যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে তাদেরই বসানো একজন উপাচার্যকে মাত্র ৪ বছরের মাথায় নতুন কোনো পদের জন্য প্রলুব্ধ করে, তবে তা অনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। স্বচ্ছতা এবং গোপনীয়তার এই দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ওঠার জন্য বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ‘সাইলেন্ট শর্টলিস্ট’ (Silent Shortlist) পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যেখানে প্রার্থীদের নাম সরাসরি প্রকাশ না করে কেবল তাদের যোগ্যতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় উপাচার্য পদের সঙ্গে ক্ষমতার রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ (Ordinance) অনুযায়ী পরিচালিত চারটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়—ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়—সর্বদাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৪৮ জন উপাচার্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যরা অস্থায়ী ভিত্তিতে বা রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। বিশেষ করে ঢাকা (পদত্যাগকারী) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উপাচার্যরা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, কারণ তাদের নিয়োগ আদেশে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকার তাদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেবে। ফলে উপাচার্যদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সংস্কারের জন্য ১২ দফা প্রস্তাবনা ঘোষণা করা হয়েছে, যা মূলত ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সংস্কারের একটি বড় অংশ হলো শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল পাঠদানের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১.৫ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা ইউনেসকোর ৪-৬ শতাংশের মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনজনের নাম সিনেট কর্তৃক প্রস্তাব করার কথা থাকলেও গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরাসরি নিয়োগ প্রদান করে। ওই বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) একটি পূর্ণাঙ্গ সার্চ কমিটি গঠনের ওপর জোর দিয়েছিল। বর্তমানে উপাচার্যদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নতুন রূপরেখা তৈরি করা এবং বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করা।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়োগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি নিয়োগই ছিল সমসাময়িক রাজনৈতিক ও একাডেমিক প্রয়োজনের ফসল। স্যার পি. জে. হার্টগ- ১৯২০ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়, তখন ব্রিটিশ সরকার এমন একজনকে খুঁজছিল যিনি লন্ডনের শিক্ষা ব্যবস্থার আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারবেন। হার্টগ ছিলেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি’ (সাডলার কমিশন)-এর সদস্য এবং শিক্ষা প্রশাসনে অত্যন্ত দক্ষ। তাঁর সেই বিশেষ অভিজ্ঞতা এবং নতুন এই শিক্ষা-মডেল বাস্তবায়নের সামর্থ্যের কারণেই তাঁকে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্যার এ. এফ. রাহমান- ১৯৩৪ সালে তাঁর নিয়োগ ছিল ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান দাবি ছিল পূর্ব বাংলার মুসলিমদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রথম উপাচার্য ব্রিটিশ হওয়ার পর, স্থানীয় যোগ্য নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়। এ. এফ. রাহমান অক্সফোর্ডের মেধাবী ছাত্র এবং আলীগড় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্রিটিশ সরকার তাঁকে যোগ্য মনে করে, যাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়। অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদার- ১৯৩৭ সালে অধ্যাপক মজুমদারের নিয়োগ ছিল মূলত তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও প্রশাসনিক যোগ্যতার স্বীকৃতি। তিনি ১৯২১ সাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একাডেমিক পরিবেশ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকায় তাঁকে এই পদে আসীন করা হয়।

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী- ১৯৬৯ সালে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একজন সর্বজনমান্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিল। তিনি ছিলেন উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি এবং অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের সাথে প্রশাসনের দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী- ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিয়োগ ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম তাত্ত্বিক সমর্থক। শিক্ষানীতি প্রণয়নে দক্ষ হওয়ার কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর জন্য তাঁকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করা হয়েছিল। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারকে এরই ধারাবাহিকতায় একজন যোগ্য উপাচার্য খুঁজে বের করতে হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসন এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশাসনিক মডেল অনুসরণ করে। সিঙ্গাপুর তার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে (যেমন NUS এবং NTU) কর্পোরেটাইজ করার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেছে। সিঙ্গাপুরের মডেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব আর্থিক ও কর্মী ব্যবস্থাপনা পরিচালনার স্বাধীনতা দেওয়া হলেও তাদের পরিচালনা পর্ষদে সরকারি প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে 'স্বায়ত্তশাসিত' ঘোষণা করা হলেও উপাচার্য এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরস নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকে। এর ফলে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা প্রায়ই জাতীয় রাজনৈতিক এজেন্ডার সাথে মিশে যায়। মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক কর্মীরা এখনও সরকারি কর্মচারী (Civil Servants) হিসেবে গণ্য হন, যেখানে সিঙ্গাপুরে তারা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বেতন কাঠামোর অধীনে কাজ করেন। সিঙ্গাপুরের মডেলটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তবে সমালোচকরা মনে করেন যে, সিঙ্গাপুরের এই স্বায়ত্তশাসন আসলে একটি ‘কঠোর জবাবদিহিতা’ (Stringent Accountability)-এর কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন 'ইউটিলিটারিয়ান' বা ব্যবহারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়, যা মূলত দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে।

ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস ‘হামবোল্টীয় মডেল’ (Humboldtian model) দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত, যেখানে একাডেমিক স্বাধীনতা এবং গবেষণার স্বায়ত্তশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ‘নিউ পাবলিক ম্যানেজমেন্ট’ (NPM)-এর উত্থান এই চিরচেনা কাঠামোয় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নর্ডিক দেশগুলোতে (নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন আরও বেশি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নরওয়েতে ২০০৫ সালের দিকে এক বিশাল সংস্কারের মাধ্যমে ‘ইউনিটারি লিডারশিপ’ (Unitary Leadership) ব্যবস্থা চালু করা হয়। আগে সেখানে উপাচার্য বা রেক্টর এবং প্রশাসনিক প্রধানের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা থাকতো, কিন্তু বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত রেক্টরই হলেন প্রতিষ্ঠানের একক নেতা। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকারিতা বাড়লেও শিক্ষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে, এটি একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি। নরওয়ের ৪০০০-এর বেশি শিক্ষক এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। জার্মানির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে শক্তিশালী প্রফেসরিয়াত (Professoriate) ঐতিহ্যের কারণে কর্পোরেট মডেলে রূপান্তর অনেক মন্থর গতিতে হয়েছে। জার্মানিতে বর্তমানে একটি ‘হাইব্রিড’ ব্যবস্থা কাজ করছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ একাডেমিক স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। ফিনল্যান্ডে ১৯৬০-এর দশকে প্রবর্তিত 'ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধিত্ব' (Tripartite Representation) মডেলটি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনিক কর্মীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ইউজিসি (UGC) তাদের ২০২৫ সালের খসড়া নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবনী ও গতিশীল নেতৃত্ব আনতে উপাচার্য নিয়োগের যোগ্যতায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেবল ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধ্যাপকরাই নন, বরং শিল্পখাত, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পাবলিক পলিসি সেক্টরের জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরাও উপাচার্য হওয়ার সুযোগ পাবেন—যদি তাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক অবদান থাকে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ উচ্চশিক্ষা ও শ্রমবাজারের দূরত্ব কমিয়ে বৈশ্বিক মান নিশ্চিত করবে; তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং এবং এর উপাচার্যের নেতৃত্বের দক্ষতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কিউএস (QS) এবং টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE)-এর তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের প্রোফাইলে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যুক্তরাজ্যের ১৫৩ জন উপাচার্যের ওপর পরিচালিত একটি নতুন গবেষণা (HEPI Policy Note 63) নির্দেশ করে যে, সফল উপাচার্যদের অধিকাংশই আগে ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা উচ্চশিক্ষার বাইরের জগত থেকে এসে সরাসরি উপাচার্য পদে বসেছেন অথবা আগে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে একই পদে ছিলেন, তাদের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে। এর কারণ হিসেবে মনে করা হয় যে, বাইরের ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাহসী সংস্কার নিয়ে আসতে পারেন। অন্যদিকে, যারা দীর্ঘকাল অভ্যন্তরীণভাবে পদোন্নতি পেয়ে উপাচার্য হয়েছেন, তাদের অধীনে প্রতিষ্ঠানের অবস্থানে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।
একজন আদর্শ উপাচার্য অবশ্যই সৎ ও দক্ষ হবেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ৫টি মৌলিক গুণাবলী হলো: ভিশনারি নেতৃত্ব- প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ১০ বছরের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরির ক্ষমতা। আর্থিক দূরদর্শিতা- রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের বাইরে দাতব্য অনুদান (Philanthropy) এবং গবেষণা গ্রান্ট সংগ্রহের দক্ষতা। স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি- শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা এবং বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা। একাডেমিক উৎকর্ষ- আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ের সূচকগুলো (যেমন Citations per Faculty) উন্নত করা। চাপ মোকাবেলা- রাজনৈতিক এবং সামাজিক চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানের মৌলিক আদর্শ ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা। এমআইটি (MIT)-এর উপাচার্য বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। সেখানে প্রার্থীদের বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং মানবিকতার সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয় এবং একই সঙ্গে একটি উচ্চতর অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি (Highly Inclusive Culture) তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। এমআইটির সার্চ কমিটি কেবল প্রার্থীর মেধা যাচাই করে না, বরং প্রার্থীর ‘আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ (Emotional Intelligence) এবং সহমর্মিতাও মূল্যায়ন করে।

আগামী এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের কার্যপরিধি আরও নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটগুলো উচ্চশিক্ষার মডেলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। ভবিষ্যতের উপাচার্যকে কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে চলবে না, তাকে হতে হবে একজন ‘সামাজিক স্থপতি’। ভারতে প্রস্তাবিত ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, উপাচার্যদের এখন কেবল প্রকাশনার সংখ্যার চেয়ে উদ্ভাবন এবং সমাজের ওপর তাদের গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সংস্কার পরিকল্পনায় কারিগরি শিক্ষা এবং ভাষা শিক্ষার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে উপাচার্যদের প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে উপাচার্যদের এখন ‘উদ্যোক্তা-সুলভ’ মানসিকতা (Entrepreneurial Mindset) গ্রহণ করতে হচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, নেতৃত্বের ধরণ দেশে দেশে ভিন্ন হলেও তাদের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো অভিন্ন। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা—এই ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জই আগামী দিনের উপাচার্যদের সাফল্যের মাপকাঠি হবে। ভারত বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো যেভাবে তাদের নেতৃত্বের কাঠামো সংস্কার করছে, তা বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য একটি শিক্ষণীয় মডেল হতে পারে। উপাচার্য পদটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদবি নয়, এটি একটি জাতির মেধা ও মননের মশালবাহী পদ, যার মর্যাদা রক্ষা করা পুরো সমাজের দায়িত্ব।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী বা জটিল কোনো ‘সার্চ কমিটি’র চেয়ে দ্রুত এবং কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ- গত ১৭ বছরের স্থবিরতা ও অসুস্থ ধারা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত গতিতে যোগ্য নেতৃত্ব বসানো প্রয়োজন। দেশের অস্থিতিশীলতা রোধে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে সরাসরি ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সাল থেকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবশ্যই সরকারের সহযোগী ও উন্নয়নবান্ধব হতে হবে। সরকার এবং শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে বৈপরীত্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেও এমন ব্যক্তিদের বেছে নিতে হবে যারা বর্তমান সরকারের ভিশন ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজগুলো ‘এলোমেলো’ না হয়ে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে ‘সরকারবান্ধব’ ও দক্ষ নেতৃত্বই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রধান চাবিকাঠি।

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মারা গেলেন ঢাবির সাবেক অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমেদ
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ…
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় পাকিস্তান কি মধ্যস্থতা ক…
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
সিনিয়র অফিসার নিয়োগ দেবে উরি ব্যাংক, আবেদন শেষ ৭ এপ্রিল
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
শনিবারেও খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
ঈদের চতুর্থ দিনেও টেকনাফের সৈকতে পর্যটকদের ভিড়
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence