আমার উপলব্ধি.....

১৪ মার্চ ২০১৯, ১২:২৮ AM

© টিডিসি ফটো

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বর্তমানে বিরোধী দলে হ্যাট্রিক টাইম পার করছে। গত ১০ বছরে সারাদেশে সবচেয়ে বেশী গুম-খুন, মামলা-হামলা আর অত্যাচার-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনের সাথে সারাদেশে প্রত্যক্ষভাবে কয়েক লক্ষ নেতাকর্মী এবং তাদের ভাগ্য জড়িত। নির্মম হলে ও এটাই সত্য যে, ছাত্রদল নিয়ে সুনিদিষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে, যদি তাই না হবে তাহলে ২ বছরের কেন্দ্রীয় কমিটি কেমন করে ৫ বছর ধরে চলছে !!

এই রকম আরো অনেক উদাহরন দেওয়া যাবে। ছাত্রদল নিশ্চয় সারা জীবন করা যায় না,আর কেউ করতে ও চায় না, অথচ গ্যাড়াকলে পড়ে জট লেগে এখানেই ঘুরপাক খেতে হচ্ছে আবার সমালোচনা ও সইতে হচ্ছে। সামনে হয়ত আরো পাঁচ বছর আমাদের বিরোধী দলে থাকতেও হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিকে টার্গেট করে বা ভাগাভাগি প্রথার মাধ্যমে কমিটি গঠনের চলমান প্রথা বন্ধ করতে হবে।

সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই একেবারে নীচ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠনের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে; কোন লেবেলে কতগুলো নেতাকর্মী আছে সেটা দেখতে হবে এর কি করলে নতুন কর্মী বাড়বে, সেই আলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাস্তব ও কার্যকরী সিদ্বান্ত গ্রহন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মী বাড়ানোর জন্য বিশেষ গুরত্ব দিতে হবে।

ভুলে গেলে চলবেনা যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এবং তাদের মূল শক্তি যুবলীগ। তাই তারা ছাত্রলীগ নিয়ে যখন তখন বিভিন্ন টাইপের এক্সপেরিমেন্ট চালাতে পারে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চালানোর কোন সুযোগ নেই, কারন ছাত্রদলই বিএনপির মূল শক্তি। ছাত্রদল নিয়ে সাংগঠনিক বাস্তবতার আলোকে সিদ্বান্ত নিতে হবে এবং যোগ্য ও দক্ষদের দিয়ে নিচ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অবশ্যই নিয়মিত কমিটি গঠন করতে হবে। ছাত্রদল নিয়ে পরিকল্পনাহীন কোন হটকারী সিদ্বান্ত শুধু ছাত্রদলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, সাথে সাথে বিএনপি ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এবারের ডাকসু নির্বাচন চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের সাংগঠনিক বাস্তবতাকে দেখিয়ে দিয়েছে। নুরু, জনি, বাপ্পীসহ শতশত নেতাকর্মীর আত্নত্যাগের কথা আমরা কেমন করে ভুলে যাব! এখনো সারাদেশে জেলে বন্দি ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী, যার প্রকৃষ্ট উদাহরন হচ্ছে আন্দোলন সংগ্রামের প্রিয় মুখ, জনপ্রিয় ছাত্রনেতা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার।

দীর্ঘ আট মাস ধরে জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা অসংখ্য মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। আর বাকী যত নেতাকর্মীরা বাইরে আছে তাদের দিন শুরু হয় আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে। শুধুমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর দেশনত্রী বেগম জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানকে ভালবেসে সংগঠন করার জন্যই বিনা বাক্য ব্যয়ে সকলের এত ত্যাগ স্বীকার। দেশনত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি এক বছরেরও বেশী সময়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনত্রীকে মিথ্যা সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণের দিন ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ঢাকার রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্রদলেই সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মী।

সামনেও দেশনত্রীর মুক্তি এবং দেশনায়ক তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার মিছিল যেন আরো বড় এবং তীব্র হয় সেই অভিপ্রায় মাথায় রেখে ছাত্রদলের জন্য একটা সুচিন্তিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সবচেয়ে জরুরী। অবাস্তব কোন সিদ্বান্তের কারণে যেন আত্নত্যাগী ছাত্রদলের স্বপ্ন ফিকে হয়ে না যায়।

লেখক: যুগ্ম-সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

গননা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দিতে নেতাকর্মীদ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
যুবলীগের চার নেতা গ্রেপ্তার
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
মহিলাদের প্রচারে বাঁধা, সংঘর্ষে জামায়াতের ৬ কর্মী আহত
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য বহ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
গবেষণার পাশাপাশি কারুকার্যেও সৃজনশীলতার ছাপ রেখে চলেছে শিক্…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ ও ঢাবি প…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬