‘স্বপ্নভঙ্গ মানেই সব শেষ নয়’

১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:০৩ PM

© টিডিসি ফটো

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। গত তিন বছরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা যায় ২০১৮ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই ৯ জন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জনসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মহত্যা করেছিলো ৯ জন শিক্ষার্থী।

আত্মহত্যার এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ সাইফুর রহমান প্রতীক। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেন! পরিবারের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা  ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন কোর্সে নাম্বার কম দেয়ায় ফলাফল খারাপ হয় প্রতীকের এবং ভেঙে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আর এটা মেনে নিতে না পেরেই আত্মহত্যা করে সে।

এ যেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবাশীষ মন্ডলের আত্মহত্যার ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার সকল যোগ্যতা পূরণ করেও কেবলমাত্র ঘুষ না দেয়ায় শিক্ষক হতে না পেরে ২০১৮ সালের মে মাসে আত্মহত্যা করেছিলো এই শিক্ষার্থী। একই বছরের সেপ্টেম্বরে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিটের দু’বছর পরেও চাকরি না পাওয়ায় আত্মহত্যা করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈকত রন্জন মন্ডল। এছাড়াও ২০১৮ সালে ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তরুণ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বেছে নিয়েছিল আত্মহত্যার পথ।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আত্মহত্যার কারণ ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশাগ্রস্থ। কিন্তু কেন? অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এসে অসীম সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়েও একজন শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে যাচ্ছে? এর সমাধান কি? একজন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী কেনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়াটাকেই জীবনের সবকিছু ভাবছে? তার এই চিন্তা-ভাবনার পেছনে কি আমাদের সমাজব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী নয়?

বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় জ্ঞানার্জনের জন্য, গবেষণার জন্য সেখানে আমাদের দেশে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় একটা ভালো চাকরির জন্য। কিন্তু আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। চাইলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে চাকরির নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যদি একটি গবেষণা নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে পারি। তরুণদের মাঝে যদি ভালো প্রতিষ্ঠানের কর্মী হওয়ার পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি করতে পারি তবে হয়তো কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের হতাশা দূর করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের মানোন্নয়ন করতে হবে। এতে কোনো শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষকরা সহজেই বুজতে পারবেন এবং হতাশা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে। কোনো শিক্ষক যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ না হয়, শিক্ষকরা যেন হয় শিক্ষার্থীদের সব থেকে বড় আশ্রয়স্থল, স্বপ্ন গড়ার কারিগর। শিক্ষকদেরকেই শিক্ষার্থীদের অনুধাবন করাতে হবে যে, জীবন সম্ভাবনাময়। স্বপ্নভঙ্গ মানেই জীবনের সব শেষ নয় বরং তার সামনে রয়েছে হাজারো সম্ভাবনা। সর্বোপরি আমাদের একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে জীবনের জন্য স্বপ্ন, স্বপ্নের জন্য জীবন নয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল: tannymony@gmail.com

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই
  • ১২ মে ২০২৬
সারাদেশের ভূমি মালিকদের জরুরি নির্দেশনা দিল সরকার
  • ১২ মে ২০২৬
ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে ২ বাংলাদেশি নিহত
  • ১২ মে ২০২৬
বাবা-মা বাহিরে, মাদ্রাসাছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ১২ মে ২০২৬
রাজধানীসহ ১০ জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস
  • ১২ মে ২০২৬
গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃত্যু
  • ১২ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9