ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গঠনতন্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে আজ (বৃহস্পতিবার) বৈঠক হয়েছে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির। আমরা বলেছি, ডাকসুর রাজনৈতিক ঐতিহ্য নিয়ে আমরা গর্ব অনুভব করি। কিন্তু একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সময় এসেছে ডাকসু ধারণা নবায়নের, নতুন দিনের একাডেমিক ঐতিহ্য বিনির্মাণে দায়বদ্ধ থাকবে আগামীদিনের ডাকসু।
আমরা এও বলেছি, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াটাকে আমরা গৌণ বিষয় মনে করি, আমাদের মূল লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হওয়াটাকেই আমরা আমাদের বিজয়, ছাত্রসমাজের বিজয় বলে মনে করব। আমরা কমিটির কাছে বলেছি, ডাকসু গঠনতন্ত্রের বাংলা সংস্করণ করে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজলভ্য করার জন্য। আমরা দাবি জানিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের আনুপাতিক হারে ডাকসুর কাঠামোর মধ্যে সম্পৃক্ত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরির জন্য। আমরা বলেছি, ছাত্রসংগঠনগুলোর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনায় পাহাড়ী ছাত্র সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার জন্য।
সম্পাদকীয় পদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত আর্কাইভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ডাকসুতে সংযোজন করার জন্য। সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্য ও গবেষণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকীয় পদের জন্যও। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রেখেছি।
একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরীক্ষার তারিখের মত প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটি সংযোজন করার প্রস্তাব রেখেছি। বলেছি ডাকসুর মাধ্যমে ছাত্র সংগঠনগুলোর জন্য অবশ্যপালনীয় আচরণবিধির কথা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখা সম্ভব হয়। ডাকসুর ত্রৈমাসিক মিটিং এবং ১ বছরের বেশি ১ দিনও মেয়াদ না থাকার বিষয়টি গঠনতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত করার কথা বলেছি। পরিশেষে বলেছি, প্রার্থীতা ও ভোটার বিষয়টি নিয়ে ছাত্রশুনানি করার জন্য যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে।
আমরা চাই আগামীদিনের ডাকসু শুধু রাজনৈতিক অর্জনের জন্য প্রখ্যাত না হয়ে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আশা পূরণের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক যাতে আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আসে, আমাদের লাইব্রেরিটা সর্বাধুনিক লাইব্রেরি হয়ে উঠে, আমরা যৌক্তিক মূল্যে মানসম্মত খাবার পাই, উচ্চশিক্ষাকে বিনিয়োগ ধরে নিয়ে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা লাভের অধিকার পাই এবং আরো অনেক কিছুই যা আমরা আমাদের স্বপ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ক্রমাগত ভেবে চলেছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক