মো. আশরাফ হোসেন
বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা পরিপূরক। চিকিৎসা সেবার সর্বোচ্চ ফল প্রাপ্তির জন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সেবার বিকল্প নেই। বস্তুত: দেশে চিকিৎসক, নার্সগণের মত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের অভাব রয়েছে। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পেশাদার বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে, ফার্মাসি, ল্যাবরেটরি, রেডিওথেরাপি, রেডিওগ্রাফি, ফিজিওথেরাপি, ডেন্টাল, সেনিটারী ইন্সপেকশন ইত্যাদি।
সরকার পল্লী ও শহর অঞ্চলে সকলের নিকট স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। পেশাদার জনবল যথা- শিক্ষিত যোগ্য চিকিৎসক, নার্স এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট বর্তমান উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য একে অন্যের পরিপূরক যা বাংলাদেশে নিশ্চিত করা যায়নি। সরকার দেশব্যাপী আটটি প্যারামেডিক ইনস্টিটিউশন পরিচালনা করছে, যেখান থেকে বিভিন্ন পেশার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হয়ে বের হচ্ছে। কিন্তু তাদের সংখ্যা প্রয়োজনের নিরিখে খুবই কম। বেসরকারি বেশ কতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তবে তাদের শিক্ষার মান প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। তাছাড়া তারা অতি উচ্চ হারে ভর্তি ও অধ্যয়নের ফি আদায় করছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা বিরাট বোঝা। কারণ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শিক্ষায় দেশের স্বল্পবিত্ত ঘরের শিক্ষার্থীরাই এসে থাকে।
জানা যায়, সরকারের স্বাস্থ্যকেন্দ্র সমূহের এক-চতুর্থাংশ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদসমূহ শিক্ষিত লোকের অভাবে শূন্য পড়ে আছে যেখানে লাখো যুবক বেকার জীবনযাপন করছে। প্রতিটি জেলায় একটি প্যারামেডিক ইনস্টিটিউশন সময়ের দাবি মাত্র। যখন প্রতি জেলায় একটি প্যারামেডিক ইনস্টিটিউশন স্থাপন হয়ে চালু হবে তখন প্রতিবছর অনেক শিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট বের হয়ে দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে। বাংলাদেশের প্রয়োজন পেশাদার কারিগরি জনশক্তির সরবরাহ বৃদ্ধি। সাধারণ শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব হ্রাস করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে যে সকল জেলায় প্যারামেডিক ইনস্টিটিউশন নেই সে সকল প্রতিটি জেলায় একটি করে প্যারামেডিক ইনস্টিটিউশন স্থাপন করে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।