সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সুদিন আসবে কবে?

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৪ PM

রাজধানীর খ্যাতনামা সরকারি সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অধিভুক্তি নেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই আনন্দিত হয়েছিল। ভেবেছিল, অবশেষে তাদের দুঃখ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। কারণ, দীর্ঘদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তারা মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল বিগত বছরগুলোতে। অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে সাত কলেজের প্রতি অনেকটা ঈর্ষান্বিত ছিল। ধারণা ছিল এতে করে তাদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। কিন্তু দেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীগণ এই সাত কলেজের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান ছিলেন শুরু থেকেই। কেননা এতে লাভের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণই যে বেশি, তা অনেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন সহজে।

অধিভুক্তির দেড় বছর পূর্ণ হয়ে গেলেও সাত কলেজের চিত্র রয়ে গেছে আগের মতোই নাজুক। এখনো কলেজগুলোতে ক্লাস হচ্ছে না নিয়মিত। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও পূর্বের ন্যায় জরাজীর্ণ। প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীর রয়েছ ফারাক দূরত্ব। বিষয়ভিত্তিক এবং ব্যবহারিক কোন ক্লাসই হচ্ছে না প্রয়োজন অনুযায়ী। দুই একটি ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষকগণ তাদের দায়বদ্ধতা শেষ করে দিচ্ছেন। বিজ্ঞান অনুষদের কোন কোন বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস সর্বশেষ কবে হয়েছিল তার হদিসও কেউ দিতে পারবে না। অথচ এ বিষয়গুলোর জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে একটি ব্যবহারিক ক্লাস থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীদের যাচাইয়ের অন্যতম মাধ্যম পরীক্ষা। যেটা হতে পারে বছরের বিভিন্ন সময়ে ক্লাস পরীক্ষা, ইনকোর্স, অর্ধবার্ষিকী ও নির্বচনী পরীক্ষা। কিন্তু তা না হয়ে বরং একই দিনে দুই চারটি পরীক্ষা নিয়ে কোনভাবে দায়িত্ব শেষ করছেন এসব কলেজের শিক্ষকগণ। যেটা আনুষ্ঠানিকতা ভিন্ন অার কিছুই নয়। অথচ মান উন্নয়নের জন্যই দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে একটি বছর। দেখার বিষয় হচ্ছে, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা কি পেয়েছে আর কি হারিয়েছে। শুধুমাত্র বছরান্তে ঢাবির লগো সম্বলিত খাতায় পরীক্ষা নিলেই কি শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়ে যায়? 

ঢাবি অধিভুক্তি নিলেও এখন পর্যন্ত কোন সিলেবাস প্রণয়ন করেনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসেই চলছে সাত কলেজের চাকা। তদুপরি এর মধ্যেও গলদ হচ্ছে কোথাও কোথাও। সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা নিয়ে অাছে অনেক অভাব-অভিযোগ। প্রশ্নপত্রে নিয়মমাফিক সিলেবাস মানা হচ্ছে না। অর্থাৎ অবস্থাটা এতটাই নাজুক হয়েছে; যেখানে শিক্ষার্থীরা না পারছে ঢাবির সিলেবাস এবং না পারছে জাবির সিলেবাস অনুসরণ করতে। ফলে কাঙ্খিত ফলাফল না পেয়ে হতাশায় ভোগছে অনেক শিক্ষার্থী। প্রশ্ন হচ্ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সুদিন আসবে কবে?

সাত কলেজ সংকট বহুদিনের আলোচ্য বিষয়। আর এর সাথে জড়িত প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত জীবন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এ ব্যাপারে অচিরেই যথোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা। শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত ক্লাস এবং পরীক্ষার বিকল্প নাই। এজন্য প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে শতভাগ ক্লাস নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব প্রশাসন কর্তৃক এতসব নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। তাই সাত কলেজ নিয়ে যদি আলাদা ইনস্টিটিউট গঠন করা হয় তাহলে শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে খুব দ্রুত গতিতে। যেহেতু ঢাবি সদিচ্ছায় সাত কলেজকে অধিভুক্তি নিয়েছিল, তাই এখন ঢাবিকেই এর দায়ভার নিতে হবে। সিলেবাস প্রণয়নসহ শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাত কলেজের শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলতে হবে। অন্যথায় এসকল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বিপন্ন হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা অনুসরণ করতে হবে
  • ১২ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ঢাবিতে তারেক রহমান
  • ১২ মে ২০২৬
আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত স্কোয়াডে ২২ খেলোয়াড় নিশ্চিত, বাকি …
  • ১২ মে ২০২৬
ঢাকাসহ ৮ জেলায় ১টার মধ্যে কালবৈশাখীর সতর্কবার্তা
  • ১২ মে ২০২৬
ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
  • ১২ মে ২০২৬
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পছন্দক্রমসহ ভর্তির আবেদন শ…
  • ১২ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9