বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ © সংগৃহীত
দেশের বেসরকারি কলেজ ও মাদরাসায় আরবি প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘বৈষম্যমূলক বিধিমালা’ সংশোধন এবং যৌক্তিকীকরণের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা এই বিধিমালাকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি চরম অবমূল্যায়ন হিসেবে অভিহিত করছেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ খন্দকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাংলা, ইংরেজি বা অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য যেখানে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিই ন্যূনতম যোগ্যতা, সেখানে আরবি বিষয়ের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে কামিল বা স্নাতকোত্তর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই দ্বৈতনীতির অবসান চায়।
তারা বলছেন, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাদরাসা বোর্ড থেকে দাখিল পাশের পর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তারপর আরবিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিদ্যমান বিধিমালার কারণে তারা আবেদনের অযোগ্য হয়ে পড়ছেন। আরবি ভাষায় ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্স করার পরও তাদের অঅবমূল্যায়ন করা অযৌক্তিক ও হতাশাজনক বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরবি বিষয়ের প্রভাষক পদে আবেদনের সুযোগ পেলেও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজে আবেদন করতে পারছেন না জানিয়ে শিক্ষার্থীরা এই একপাক্ষিক নীতির অবসান ঘটিয়ে উভয় বিভাগের জন্য সমান সুযোগ অথবা স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই মানের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর কেবল বিষয়ের কারণে ভিন্ন ভিন্ন শর্তারোপ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই অযৌক্তিক শর্ত শিথিল করে সকল বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। তারা অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানিয়েছেন।