এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান © ফাইল ছবি
‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরুর পর শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের পর ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য সিলেবাস চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন ৭তম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির যোগদান প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ কার্যক্রম শুরু করতে চাই। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই অনলাইনে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।’
আগামী মার্চ মাসে ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার। অনলাইনে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের পরপরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সেটি হতে পারে মার্চের মধ্যেই।’
এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিবন্ধন বিধিমালায় কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৪০টি বিষয়ের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমতা করায় নিবন্ধনধারীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। আসন্ন ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকে এটি কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে যেসব পরিবর্তন আসছে
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও স্কুল-কলেজে এবং কারিগরিতে ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ১০০ নম্বর জেনারেল এবং মাদ্রাসারা জন্য ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ৬০ নম্বর জেনারেল করা প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এভাবে বিভাজন করলে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য তিন বিভাগের জন্য নম্বর প্যাটার্ন একই রকম রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় অনেকে অনেক ধরনের প্রস্তাব করেছেন। স্কুল-কলেজে এবং কারিগরির জন্য একরকম। আবার মাদ্রাসার জন্য আরেকরকম। তিন বিভাগের জন্য পৃথক পদ্ধতি করা হলে এক প্রকার বৈষম্য করা হবে। সেজন্য আমরা তিন বিভাগের জন্য একই রকম পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ভাবছি। সামনে এনটিআরসিএর বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সভায় এটি চূড়ান্ত করা হবে।’
জানা গেছে, এর আগে এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষায় কখনোই প্রার্থীদের ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়নি। প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হবে। নতুন বিধিমালায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে ইতিবাচক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রথমবারের মতো ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে বয়স গণনা করা হবে।
এ বিষয়ে মাউশির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিসিএসসহ সব ধরনের চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়। আমরাও এনটিআরসিএর নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করার মতামত দিয়েছি। ভাইভার নম্বর যুক্ত না হলে প্রার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হবে না। আশা করছি আমাদের মতামত শিক্ষা মন্ত্রণালয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।