গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসা © সংগৃহীত
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অন্য একটি মাদ্রাসায় সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তবে পদায়নের পরও তাকে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ কারণে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছেন না ওই শিক্ষক।
জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৬ জুন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরপর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (বাংলা) হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ৩০ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি.এস. ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় নতুন সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু এরপরই তার বদলিতে ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করছে প্রতিষ্ঠান প্রধান।
এ বিষয়ে বদলি পাওয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পরই আমি প্রিন্সিপাল স্যারকে আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে রাখার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সেগুলো প্রস্তুত করে রাখেননি। পরে আমি অফিসে এসে আবেদন জমা দিলে তিনি জানান, এ জন্য আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে।’
আরও পড়ুন: একটি ফল, ঝরে গেল ৭ প্রাণ—এসএসসির ফল কি জীবনের চেয়েও বড়?
এরপর আমি ইউএনও ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গেলে তারা আমার কাগজপত্র দেখে তা দিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। তারা জানান, এ ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপরও ৯ আগস্ট ও ১০ আগস্ট আমাকে দুই দিন ঘোরানো হয়েছে। পরে ১১ আগস্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু আজ ১২ আগস্ট পর্যন্তও আমাকে ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।
এদিকে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকে দেওয়া আবেদনপত্রে খাইরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৬ জুন এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি মাদ্রাসায় যোগদান করেন।
আবেদনপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা শাখা-১-এর স্মারক নম্বর ৫৭.০০.০০০.০০০.০৫৫.১৯.০০০১.২৬-১৮-এর মাধ্যমে তাকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি.এস. ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এ বিষয়ে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনটি রেখে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. কে. এম. মীর হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান বদলির বিষয়টি জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ওই শিক্ষককে ছাড়পত্র দিতে বলেছিলেন। তবে এরপর ওই শিক্ষক ছাড়পত্র পাননি এ বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘জানানো হলে তো আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।’