বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ © ফাইল ফটো
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান, সহকারী প্রধান নিয়োগের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, শূন্য পদের তিনগুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। একই সাথে ১:১.১০ অনুপাতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ তালিকা থেকে পরবর্তীতে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগসংক্রান্ত খসড়ার সংশোধনী তৈরি করে সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংশোধিত খসড়া নিয়ে ফের একটি বৈঠক হবে। এ বৈঠকে নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হবে।
সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে লিখিত, বাছাই, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রমানুসারে শূন্যপদের বিপরীতে ১:১.১০ অনুপাতে পদভিত্তিক একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে থাকবে ১২ নম্বর। আর ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শূন্যপদের সংখ্যার সমপরিমাণ প্রার্থীর একটি প্যানেল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। সকল পরীক্ষায় কৃতকার্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পরিপত্রের খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচিত প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে শূন্যপদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে। তবে শূন্যপদের চাহিদাজনিত বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কারণে কোনো প্রার্থী যোগদান করতে অসমর্থ হলে, মেধাক্রম অনুসারে তালিকার পরবর্তী প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করা হবে।
একজন প্রার্থী শূন্যপদের তালিকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন। পছন্দ প্রদান করার পর যদি কোনো প্রার্থী তার নির্ধারিত পছন্দের বাইরে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী হন, তাহলে তাকে অনলাইনে e-Application ফরমে প্রদর্শিত ‘Other Option’-এ সম্মতি প্রদান করতে হবে।
নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্ধারিত ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত করবে।
তবে জনবল কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা না থাকলে কোনো প্রার্থী নিয়োগ সুপারিশের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া আদালতে বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।