২০ বছরে সুন্দরবনে ২৫বার আগুন, পুড়ে নিঃশেষ হচ্ছে অখণ্ড বনভূমি

অগ্নিকাণ্ড
সুন্দরবনে আগুন  © ফাইল ছবি

সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। সেই বনভূমির পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় সোমবার (০৩ মে) বেলা ১১টার দিকে আগুন লেগেছে।  এখনো জ্বলছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। এটি এ বছর সুন্দরবনে দ্বিতীয় বারের মত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। গত ২০ বছরে এই সুন্দরবনে পূর্ব বন বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ বার। বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডে সুন্দরবনের প্রায় ৭৫ একর শতাংশ বনভূমির গাছ, বিভিন্ন ধরনের ঘাস, লতাপাতা পুড়ে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।  

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ২০০২ সালে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায়, ২০০৪ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ক্যাম্প এলাকায় ও আড়ুয়াবের খালে। ২০০৫ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের আড়ুয়াবের খালের পশ্চিমে তুলাতলা ও খুটাবাড়ি এলাকায় আগুন লাগে। এরপরের বছর ২০০৬ সালে তেরাবেকা খালের পাড়ে, আমুরবুনিয়া, কলমতেজিয়া, পচাকুড়ালিয়া বিল ও ধানসাগর স্টেশন এলাকায় মোট পাঁচটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

এছাড়াও ২০০৭ সালে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী নলবন, পচাকুড়ালিয়া বিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটে। ২০১০ সালে ধানসাগর স্টেশনের গুলিশাখালী, ২০১১ সালে ধানসাগর স্টেশনের নাংলী, ২০১৪ সালে আবারও ধানসাগর স্টেশন সংলগ্ন বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালেও ধানসাগর স্টেশনের নাংলী, পচাকুড়ালিয়া, তুলাতলী এবং ২০১৭ সালে একই স্টেশনের মাদরাসার ছিলা নামক স্থানে আগুন লাগে। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধানসাগার স্টেশন এলাকায় এবং সর্বশেষ ৩ মে শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ হিসেবে ২০০২ সালের ২২ মার্চ থেকে থেকে ২০২১ সালের ৩ মে পর্যন্ত ২০ বছরে ২৫ বার সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

আজকের অগ্নিকাণ্ডের পর এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় স্থানীয় সিপিজির টিম লিডার লুৎফর রহমান বলেন, সুন্দরবনে আগুন লাগলে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আমরা আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করি। এর আগেও আমরা ১৫-২০ জন সিপিজি সদস্য সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি। আশা করি খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

বার বার আগুনে বন নিশেঃষ হতে দেখে স্থানীয়রা বলছে, সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। কখনও আগুন লাগার কারণ আমরা জানতে পারি না। আগুন লাগলেই শুনি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। পরে আর কিছু শুনি না। সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত রক্ষা করে। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ আমাদের জানানো উচিত। আমাদের ধারণা বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে আগুন লাগানো হয়।  


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ