ইসলামের টানে অভিনয় ছেড়েছিলেন প্রয়াত নায়ক শাহীন আলম

মৃত্যু
শাহীন আলম  © ফাইল ফটো

কিডনি রোগে ভুগে না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শাহীন আলম। তবে মৃত্যুর বেশ কয়েকবছর আগেই অভিনয়কে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। এর পেছনে ছিল ইসলাম ধর্মের অনুশাসন পুরোপুরি পালনের তাগাদা। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী জীবন-যাপন করতেই ছেড়েছিলেন অবিনয়।

মৃত্যুর ককয়েকমাস পূর্বে দেশের একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন প্রয়াত এই অভিনেতা।

অভিনয় ছেড়ে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলা প্রসঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে শাহীন আলম বলেছিলেন, আমি তো মুসলমান। পরকালে বিশ্বাসী। আমাকে একদিন না একদিন ওই সর্বশক্তিমানের কাছে ফিরতেই হবে। তখন কী জবাব দেব? একটা মানুষ কত দিন বাঁচে? ধরুন খুব বেশি হলে ১০০ বছর বাঁচব। এরপর তো আল্লাহর কাছে গিয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমি বলব, আগে পরকালের হিসাবের খাতাটা ঠিক রাখতে হবে। এসব বিবেচনা করেই সিনেমা থেকে সরে এসেছি। আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে মৃত্যু হয় শাহীন আলমের। এর আগে, গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শাহীন আলমকে। ৬ মার্চ থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন সালমান শাহ’র সঙ্গে অভিনয় করে আলোচনায় আসা এ অভিনেতা।

শাহীন আলমের ছেলে ফাহিম নূর গণমাধ্যমকে বলেন, আগে থেকেই বাবা কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার তার জ্বর আসে। আর শনিবার তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেদিন থেকেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বাবা।

শাহীন আলমের অভিনয় জীবনের শুরু মঞ্চ নাটক দিয়ে। ১৯৮৬ সালের এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। ১৯৯১ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মায়ের কান্না’।

শাহীন আলমের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ঘাটের মাঝি, এক পলকে, গরিবের সংসার, তেজী, চাঁদাবাজ, প্রেম প্রতিশোধ, টাইগার, রাগ-অনুরাগ, দাগী সন্তান, বাঘা-বাঘিনী, আলিফ লায়লা, স্বপ্নের নায়ক, আঞ্জুমান, অজানা শত্রু, দেশদ্রোহী, প্রেম দিওয়ানা, আমার মা, পাগলা বাবুল।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ