সুশিক্ষার অভাবে যতীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য ভাঙচুর

১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:২০ PM
আশরাফুল আলম খোকন

আশরাফুল আলম খোকন © ফাইল ফটো

কুশিক্ষায় শিক্ষিতরাই যতীন্দ্রনাথ মুখার্জির ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। তিনি বলেছেন, যতীন্দ্রনাথ মুখার্জিকে ওরা চেনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসাবে। কারণ ওদের সুশিক্ষা নাই, হয়তো কুশিক্ষায় শিক্ষিত। তাই তারা যতীন্দ্রনাথ মুখার্জির ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে।

আজ শুক্রবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে খোকন বলেন, এই বাঙালী জাতি যতীন্দ্রনাথ মুখার্জিকে চেনে ‘বাঘাযতীন’ হিসাবে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম একজন যোদ্ধা হিসাবে। যাদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল আজকের বাংলাদেশ। ভাস্কর্য ভাংচুরকারীরা বাঘাযতীনদের এই দেশে বাস করেই আয়েশ করে আজ আপেল, কমলা, আঙ্গুর, মুরগির বড় রানটা খাচ্ছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে খোকন অভিযোগ করে বলেন, আমি নিশ্চিত ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের আদর্শিক পূর্ব পুরুষরা এই জাতি গঠনে কোনো অবদান রাখেনি। আর বর্তমানে এরাও সন্তান উৎপাদন ছাড়া দেশের উৎপাদনশীল অন্য কোনো কাজে নেই। শুধু বিদেশের কাছে দেশের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার কয়া কলেজের সামনে অবস্থিত এ ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্যের নাক ও মুখের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।’

ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়া কলেজের সভাপতি ও তাতীলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভকেট নিজামুল হক চুন্নু, প্রিন্সিপ্যাল হারুন-আর রশিদ, নাইট গার্ড খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাবাদ শেষে সন্ধ্যার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

তদন্ত কমিটি

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অন্য দুই সদস্য হলেন- কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিবুল ইলামাম ও কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান।

যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী নেতা। তিনি ‘বাঘা যতীন’ নামে সকলের কাছে সমধিক পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন। তার জন্ম ১৮৭৯ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানায়। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে তিনি মারা যান। বাংলাদেশে ভারতীয় দুতাবাসের দেয়া তার ভাস্কর্যটি কয়া কলেজের সম্মূখে স্থাপন করা হয়েছিল।

৯৪২ কোটি টাকার অত্যাধুনিক রাডারের যুগে বাংলাদেশ, নজরদারি কর…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে বাজেট বাড়াতে যাচ্ছে যুক্তর…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
কামরাঙ্গীরচরে প্রিন্টিং কারখানায় আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউ…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় পুলিশের বির…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিটি ক্যাম্পাসে আমরা আপনাদেরকে হাজার হাজার বার গুপ্ত বলব…
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের আহ্বান রাবি ছাত্রদল সভাপত…
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬