জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা: ৪ দাবিতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানান
সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানান  © ফাইল ফটো

পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক শহীদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৪টি দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার( ২১ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে রংপুর মহানগরীর পূর্ব শালবন এলাকায় জুয়েলের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানানো হয়।

এসময় জুয়েলের স্ত্রী বলেন, আমরা ঘটনার পরদিন থেকে বলে আসছি জুয়েল পবিত্র কোরআন আবমাননার সঙ্গে জড়িত নয়। তাই তাকে সরকারের পক্ষ থেকে এই অবমাননার অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে হবে। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক তদন্ত রিপোর্টে ওইদিন কোরআন অবমাননার কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জুয়েলকে কোরআন অবমাননার অপবাদ থেকে মুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে, তাও করা হয়েছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

জুয়েলের স্ত্রী আরো বলেন, আমরা আশা করছি, প্রশাসন যেভাবে সক্রিয় আছে,বাকি আসামিরাও শিগগির ধরা পড়বে এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জুয়েলের স্ত্রী, কন্যা, পুত্র গভীর যন্ত্রণা ও মনোবেদনার সঙ্গে সঙ্গে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারটি কীভাবে তাদের সংসার এবং সন্তানদের শিক্ষাখরচ বহন করবে তা ভাবিয়ে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী তার অপার উদারতায় অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। আমরা মনে করি, জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা একজন গ্র্যাজুয়েট। তাই জুয়েলের স্ত্রীকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে তিনি কন্যা ও পুত্রকে নিয়ে আগামী দিনগুলো অতিবাহিত করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়। এগুলো হলো- জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তাকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়া, খুনিরা যারা এখনও গ্রেফতার হয়নি তাদের গ্রেফতারে চলমান প্রক্রিয়া জোরদার করা, জুয়েল হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব‌্যুনালে সম্পন্ন করা এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাটি রংপুরে স্থানান্তর করা।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন অবমাননার অভিযোগে তুলে শহীদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে মারে বিক্ষুব্ধরা। পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

 


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ