জমি দখল, কমিটি ও পরকীয়া বাণিজ্য

উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

১৯ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪২ PM
কাজী মুরাদ

কাজী মুরাদ © টিডিসি ফটো

অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এবার বরিশালের মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। সুদর্শন মুরাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকবার নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেও ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

উপজেলার একাধিক পরিবার দাবী করেছেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক স্থাপন ছিল তার নৈমিত্তিক ব্যাপার। মূলত, প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জমি দখল, টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার অভিযোগও বিস্তর। এমনকি পালিয়ে থেকেও মুলাদী থানার ওসিকে চাপের মুখে রেখেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে কারণে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি নন।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যারা দায়ী হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে আটক হন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। তখন সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী সেই নারী থানায় অভিযোগ দিলেও থানা তা নেয়নি। তারও কয়েক বছর আগে, সফিপুর ও কাজীর চরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই তরুণীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলেও বিয়ে না করায় এলাকায় বেশ তোলপাড় তৈরি হয়েছিল। আর সর্বশেষ জড়িয়ে পড়েন প্রবাসীর স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের সাথে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করার কথা বলে ওই জনপ্রতিনিধির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন কাজী মুরাদ। যা এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। এ নিয়ে পারিবারিক ভাবে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কাজী মুরাদ ছাত্রলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে সংরক্ষিত সেই ইউপি সদস্যের পিছু ছাড়েননি। স্থানীয়রা তাদের অবাধ মেলামেশার বিষয়ে আপত্তি জানালে দলবল নিয়ে তাকে মারধর করতেন। তবে কয়েকদিন আগে প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী ওই ইউপি মেম্বার কাজী মুরাদকে বিয়ে করার কথা বললে তিনি অস্বীকার করেন। আর তাতেই বেকে বসে মুলাদী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়েরের জন্য যান সেই ইউপি মেম্বার। কিন্তু ওসি ফয়েজ উদ্দিন তাকে কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে নিবৃত করেন। শেষে কাজী মুরাদের বাসায় গিয়ে উঠতে চান সেই নারী। শেষে লোকলজ্জার ভয়ে এবং ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে আত্মগোপনে চলে যান কাজী মুরাদ। এদিকে সেই ইউপি মেম্বারের শ্বশুর থানায় অভিযোগ দেন, তার পুত্রবধূ ও ইউপি মেম্বার এবং কাজী মুরাদ তার ছেলের ৩৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন। এর মাধ্যমেই ফাঁস হয়ে যায় মুরাদের অপকর্ম।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মুরাদ উপজেলার পাতারচর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি জমি দখল করেছেন। এছাড়া ২০১৯ সালে সফিপুর, নাজিরপুর ও বাটামার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে টাকার বিনিময়ে ছাত্রদল, জামায়াত-বিএনপির পরিবারের লোকদের হাতে তুলে দিয়েছেন ছাত্রলীগের পদ। যা নিয়ে সেই সময়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ আকন, সাইফুল মৃধা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইমাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ ও সুজন নলী স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন।

এ বিষয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা কাজী মুরাদ জানিয়েছেন, গত ইউপি নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। মনোনয়ন পাওয়ার ৪/৫ দন পরে সেই মনোনয়ন বাতিল করে দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আমার স্থানে কামরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে চাল চুরি, গম চুরির মত বিভিন্ন দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছে। সেই বিষয়ে আমি সরব হওয়ায় ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এসব দুর্নাম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মূলত এসব অভিযোগ কোনটাই সত্য নয়।

যবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নেত্রকোনায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সেমিনারের মাঝেই ড. …
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এবার নাসুমের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনল সিলেট টাইটান্স
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বিসিএস সিলেবাসের সমালোচনা করে যা বললেন ডা. জাহেদ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
‎রুয়েটে ‎যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ-বিষয়ক সেমিনার …
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬