ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত জাহান রুহি। অভিনয় দিয়ে কেড়েছেন হাজারো মানুষের হৃদয়। তবে এবার রাজনীতির মাঠে নেমেও বাজিমাত করলেন। সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সর্বাধিক ভোটে নুসরতের জয়ের মূলে বাম সমর্থনও রয়েছে। এছাড়া কার আসনে ধর্মীয় মেরুকরণও ছিল স্পষ্ট। রাজ্যে শাসক দলের জয়ীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে জিতেছেন বসিরহাট কেন্দ্রে। আগে থেকেই তৃণমূলের হাতেই থাকা আসনে এবার প্রার্থী ছিলেন নবাগতা নুসরত জহান রুহি।
পশ্চিমবঙ্গের অনেক আসনে যখন নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে ভোটবাক্স ভরিয়েছেন ভোটাররা, সেখানে সব হিসেব পিছনে ফেলে তিন লাখ ৫০ হাজার ৩৬৯ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন নুসরত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য তিনি। মোট ভোট পেয়েছেন সাত লাখ ৮২ হাজার ৭৮টি। নুসরতের প্রতিপক্ষ বিজেপির সায়ন্তন ভোট পেয়েছেন চার লাখ ৩১ হাজার ৭০৯টি।
লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইছামতী পাড়ের এই আসনে ধর্মীয় মেরুকরণ ছিল স্পষ্ট। সেই মেরুকরণের ফসলই ঘরে তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাম ভোট যখন হুহু করে রামের ঝুড়ি ভরেছে, সেই সময়ে বসিরহাটের পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে। ওখানে বাম ভোট গিয়েছে তৃণমূলেই।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘মানুষ ভোট দিয়েছেন। অন্য জায়গার মতো বাম ভোট বিজেপিতে যায়নি।’ আর বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসুর মতে, ‘আমরা ভেবেছিলাম, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাবে সিপিআই এবং কংগ্রেস। বাস্তবে তা হয়নি। সেই জন্যই ওখানে ব্যবধান এত বড় হয়েছে।’
২০১৪ সালে বসিরহাটের তৃণমূল প্রার্থী ইদ্রিস আলির ঝুলিতে গিয়েছিল ৩৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট। তা ধরে রেখে এ বার তৃণমূলের ভোট বেড়েছে আরও ১৫দশমিক ৯১ শতাংশ। নুসরাত পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোট। অথচ ২০১৪ সালের তুলনায় বামেদের ভোট কমেছে ২৫দশমিক ২১ শতাংশ।
২০১৪ সালে বিজেপির ভোট ছিল ১৮দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ বার তা বেড়ে হয়েছে ৩০দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ ১১দশমিক ৭৬ শতাংশ। তবে কংগ্রেস প্রায় একইভাবে ভোট ধরে রাখতে পেরেছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বসিরহাটে বামেদের ভোট কার্যত বিভাজিত হয়েছে। তাতে সুবিধা পেয়েছে তৃণমূল।
তাঁদের মতে, ওখানে হিন্দুত্বকে ঠেকাতে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলেন বসিরহাটের ভোটারেরা। হাড়োয়া, মিনাখাঁ, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর এবং বাদুড়িয়া— সব বিধানসভা আসনেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল।
একসময় বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতেছিলেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য। এবার সেখানেও বিজেপির থেকে ১৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছে রাজ্যের শাসক শিবির। বাদুড়িয়ার বিধায়ক কংগ্রেস প্রার্থী কাজি আব্দুল রহিম। সেখানে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
হাড়োয়ায় ৯৭ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপিকে পিছনে ফেলেছে তৃণমূল। মিনাখাঁয় সেই ব্যবধান ৬৬ হাজারের বেশি। বসিরহাট উত্তরে এ বার। তৃণমূল এবং বিজেপির ভোটের ফারাক প্রায় ৮৩ হাজার। খবর: আনন্দবাজার।