পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের সাঁড়া ঘাট ক্যানেলপাড়া ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় একাবাসীর মানববন্ধন © টিডিসি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়ন-সংলগ্ন কুষ্টিয়া ও লালপুর অংশের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের আস্তানা উচ্ছেদ, নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের সাঁড়া ঘাট ক্যানেলপাড়া ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় ‘পদ্মা নদীপাড়ের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীবৃন্দ’র ব্যানারে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তাদের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে প্রায় দুই হাজার গ্রামবাসী পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরযুক্ত আবেদন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন, সাঁড়া ৫ নম্বর ঘাটের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রাজু, ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ মন্ডল, অপূর্ব কুমার, জামাল প্রমানিক, সুকুমার হালদার, আসলাম হোসেন, সাগর মোল্লা, গুলিবিদ্ধ যুবকের স্বজন রিজিয়া খাতুন, ফাহিমা খাতুন, রিনা বেগম, মুরসিদা বেগম প্রমুখ।
সমাবেশে ভুক্তভোগীরা বলেন, পদ্মা নদীতে বালু ও খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে নদীর চরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই নৌকা ও স্পিডবোটে করে চর থেকে সন্ত্রাসীরা নদীপাড়ে এসে গোলাগুলি করে। এই গোলাগুলির মধ্যে স্থানীয় সাধারণ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়। গত সোমবারও (৬ অক্টোবর) একজন কৃষক ও একজন শিক্ষাথী গুলিবিদ্ধ হয়। পদ্মা পাড়ের বাড়ি ঘরে গুলি এসে ঘরের টিনের চালা ও বেড়া ফুটো হয়ে যায়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ও গুলিবিদ্ধ লোকজনের পরিবারের সদস্যরা এসব ঘটনার বর্ননা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা আরও বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নসহ লালপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর চর অঞ্চলগুলোয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন বাহিনী প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন। গুলিবর্ষণ করে পদ্মা নদীর পাড়ের সাধারণ মানুষদের আতঙ্কিত করছেন। অথচ উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তাদের অভিযোগ, ঈশ্বরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এসব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাই ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবি করেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন গ্রামবাসী। তাদের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে প্রায় দুই হাজার গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘পদ্মাপাড়ে গোলাগুলিতে যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তাদের বিষয়ে নৌ পুলিশকে মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছি এবং দ্রুততম সময়ে চরাঞ্চলে অভিযান চালানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যেসব অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও টোল আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান করে তা বন্ধ করা হয়েছে। এ জন্য সেই আক্রোশের জেরে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে তারা।’
ঈশ্বরদী লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পদ্মা নদীতে টহল অভিযান অব্যাহত আছে।’
প্রসঙ্গত সাঁড়া ঘাট এলাকায় গত ২৬ মে প্রথম দিনে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। তারপর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১০-১২ জন সাধারণ কৃষক ও গ্রামবাসী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। গত ৬ অক্টোবর উপজেলার পদ্মা নদীর বালু মহালে টোল আদায় কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা আতর্কিত গুলি বর্ষণ করে। এতে স্থানীয় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।