ঝালকাঠিতে ভাসমান আমড়ার হাট, দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিদেশে

১১ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:৫৫ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM
ভিমরুলী গ্রামের এই ভাসমান হাটে প্রতিদিন নৌকায় করে আমড়া বেচাকেনা চলে

ভিমরুলী গ্রামের এই ভাসমান হাটে প্রতিদিন নৌকায় করে আমড়া বেচাকেনা চলে © টিডিসি ফটো

পুষ্টিগুণে ভরপুর, সুস্বাদু, টক-মিষ্টি ফল আমড়া। কাঁচা ও পাকা—দুই অবস্থায়ই ফলটি খাওয়ার উপযোগী। আশ্বিন ও কার্তিক মাসে পরিপক্ব আমড়া পাওয়া যায়। তবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এর বহুবিধ বাণিজ্যিক ব্যবহারও আছে, খাওয়ার সুযোগও হয় সারা বছর। ঝালকাঠির পেয়ারার সুখ্যাতি ছিল।

এবার যোগ হলো আমড়ার নাম। জেলার ২ শতাধিক গ্রামে আমড়া গাছ লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সেখানকার চাষিরা। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই জমে উঠেছে ঝালকাঠির আমড়ার বাজার। ভিমরুলী ও আটঘর কুরিয়ানার ভাসমান হাটে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ।

জেলার কৃত্তিপাশা ইউনিয়নজুড়ে দেখা গেছে আমড়ার চাষ। ভীমরুলি, শতদশকাঠি, খেজুরা, আতাকাঠিসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এখন আমড়া চাষ হয়। অন্য জেলার আমড়ার তুলনায় মিষ্টি হওয়ায় এই জেলার আমড়ার চাহিদা বাড়ছে। সারা দেশে এসব আমড়ার বিপুল চাহিদা রয়েছে।

03

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর অনেক পণ্যের মতো আমড়ারও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে; যে কারণে অনেক শিক্ষিত ও বেকার যুবক চাকরির অপেক্ষায় না থেকে পৈতৃক বাগানের হাল ধরেছেন; যুক্ত হয়েছেন আমড়া চাষে। কেউ কেউ তাদের বাগানকে আরও সম্প্রসারণ করছেন। ফলে বাড়ছে উৎপাদনও। সব মিলিয়ে এসব আমড়া এখন ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে; যা তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনে দিচ্ছে।

ঝালকাঠি শহরতলির কীর্তিপাশা মোড় থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাসের বাংকারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক বস্তা আমড়া চট্টগ্রাম হয়ে নৌপথে যাচ্ছে বিদেশে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে ঝালকাঠির আমড়া, দাবি আমড়া চাষিদের। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর আমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এ জেলায় দিন দিন বাড়ছে আমড়ার চাষ।

জেলার মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। প্রতিবছর এখানে অস্থায়ী ডজনখানেক আড়তে চলে আমড়ার বেচাকেনা। প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকায় করে আমড়া নিয়ে এই ভাসমান হাটে হাজির হন চাষিরা। আড়তদারেরা নৌকা থেকেই কিনে নেন আমড়া। সকাল ৮টার মধ্যে বাজার বসে, বেচাকেনা চলে দুপুর পর্যন্ত। ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বেচাকেনা হচ্ছে। এরপর বাছাই করে বস্তা ও ক্যারেটে সাজিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান পাইকারেরা; যা চলে যায় ঢাকাসহ সারা দেশে।

নৌকায় করে ভীমরুলি ভাসমান হাটে আমড়া নিয়ে যাচ্ছিলেন চাষি সবুজ হালদার ও মলয় হালদার। তারা বলেন, ১০ কাঠা জমিতে আমড়ার চাষ করেছেন। এ বছর ৫০ মণের বেশি আমড়া বিক্রির আশা করছেন। ঝালকাঠির আমড়া ভীমরুলি থেকে যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে। এমনকি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে। গুণ-মান ভালো বলেই এখানকার আমড়ার চাহিদা আছে সারাদেশে। যারা আমড়া কেনেন, সবাই চান এ অঞ্চলের আমড়া কিনতে। তবে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আরও সহযোগিতা দাবি করেছেন মলয় হালদার।

কথা হয় ভীমরুলির আরেক চাষি রিপন চৌধুরীর সাথে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে আমড়া গাছ লাগান এবার প্রায় ৫০ মণের বেশি আমড়া বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাস আমড়ার ভরা মৌসুম। তাই ওই সময়ে দামও ভালো থাকে। কিছু গাছে সারা বছর আমড়া ধরে। আফসোস করে তিনি বলেন, কুড়িয়ানা, আটঘর, ভীমরুলি, ডুমুরিয়া, বেতরায় বিপুল পরিমাণ আমড়া হয়। তবে সেসব সংগ্রহের মতো পর্যাপ্ত ব্যবসায়ী ও আড়তদারের অভাব রয়েছে। তৃণমূলে, অর্থাৎ বাগান থেকে সংগ্রহ করা আমড়া প্রথমদিকে ৩০০-৩৫০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। সেটা এখন সাড়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার কাছাকাছি। পেয়ারার মতো দ্রুত পচনশীল নয় বিধায় আমড়া চাষে লাভ বেশি।

সদরের ডুমুরিয়া বাজার কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণনকেন্দ্রের পাইকার বিজয় রায় বলেন, এ বছর আমড়ার উৎপাদন মোটামুটি ভালো হলেও বন্যার কারণে আকার তুলনামূলক ছোট। বাজারদর সর্বনিম্ন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মণ।

ভীমরুলির আড়তদার লিটন বলেন, শ্রাবণ মাস শেষ হলেই আমড়ার ভরা মৌসুম। প্রতিদিন ৫০-৬০ মণ আমড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর যাচ্ছে বস্তা ভরে। দাম মণপ্রতি ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে। আড়তদাররা জানান, চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে কাঁচা আমড়া ও প্রক্রিয়াজাত আমড়া ভারত ও আশপাশের দেশে যাচ্ছে। এ ছাড়া গত বছর থেকে এ অঞ্চলের আমড়া লন্ডনেও রপ্তানি হচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. টিএম মেহেদী হাসান সানি বলেন, ‘আমড়ায় আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাসসহ আনেক পুষ্টিগুণ। আঁশ থাকায় আমড়া হজমে সহায়তা করে। তাই মৌসুমে নিয়মিত আমড়া খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কাঁচা তো বটেই, সরষে মাখা দিয়ে, রান্না করে ও মোরব্বা করেও আমড়া খাওয়া যায়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বছর ঝালকাঠিতে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি প্রায় ১২ টন আমড়া পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন আমড়া উৎপাদিত হবে। মৌসুমজুড়ে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার চাষ। এতে শিক্ষিত ও বেকার যুবসমাজের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষকদের প্রত্যাশা সরকারিভাবে যদি সরাসরি আমড়া কেনা হয়, বড় ব্যবসায়ীরা যদি সেখান থেকে সরাসরি আমড়া নিয়ে যান, তাহলে আমড়ার ব্যবসাটা আরও বাড়তো। বিদেশে রপ্তানিও বাড়তো।

সিপাহী নিয়োগ দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আবেদন শেষ ২ এপ্রিল
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ে নিয়োগ দেবে বেলমন্ট গ্রুপ, কর্মস্থল…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
জবিতে শিক্ষক-কর্মচারী হেনস্থার ঘটনায় জকসুর নিন্দা
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বরগুনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ডিপ্রেশন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার ফাঁকে ছুটিতে এসে ঢামেকের সাবেক…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
যশোর শহরে নিবন্ধিত রিক্সা-ইজিবাইক ৪৫শ’, চলছে ২০ হাজার: অসহন…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence