তরুণদের চোখে স্বাধীনতা দিবস

২৬ মার্চ ২০২৪, ০১:০৩ AM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৮ PM

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৬ ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন-সার্বোভৌম বাংলাদেশের জন্ম। স্বাধীনতার এই ৫৩ বছরে আমরা স্বাধীনতার স্বাদ কতটা পেয়েছি, স্বাধীনতা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা জানার চেষ্টা করেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস এর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ হোসাইন।

আমাদের স্বাধনীতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হোক

স্বাধীনতা মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা অর্জন শুধু কোনো রকমে বেঁচে থাকার জন্য নয়। আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, মুক্তি চেয়েছিলাম, মর্যাদা চেয়েছিলাম, সাম্য চেয়েছিলাম, ন্যায়বিচার চেয়েছিলাম। সেই স্বাধীনতার বয়সও ৫৩ বছর! অর্ধ শতাব্দীর স্বাধীন হওয়া একটি দেশ হিসেবে আমাদের অর্জন কতটুকু সেই প্রশ্ন ঘুরেফিরেই তো আসে। ১৯৭১ নিয়ে আমাদের গৌরব আছে, আমাদের গল্প আছে, কিন্তু ৭১ পরবর্তী গল্পগুলো খুব বেশি উজ্জ্বল নয়।

আমাদের দেশের নাম, পতাকা, শাসক ও শাসন পদ্ধতি বদলেছে। আমরা নিজেদের স্বাধীন দেশের নাগরিক বলতে পারছি কিন্তু যে পরিমাণ ত্যাগ, ক্ষত আর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই আনুপাতিক হারে আমাদের অর্জন হয়নি। রাজনৈতিক বিভেদ, ধর্মীয় বিভেদের মাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ি যেন কমছেই না। তাই নিজের মাতৃভূমিকে ভালোবাসে এমন মানুষগুলোর মধ্যে ঐক্য দরকার। মুক্তিযোদ্ধার চেতনা বুকে ধারণ করি কিন্তু এই চেতনা ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মকে যদি মুক্তিযুদ্ধের বাইরে থাকা সকল শক্তির বিরুদ্ধে শুধু বিষোদগারই শেখানো হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক অঙ্গীকার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

আজকের এই সময়ের এসে আমরা কতটা স্বাধীন আছি সেই চিন্তা করলেই দেখেন-আজ আমাদের বাক স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেন কিংবা গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে?
স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকুক, সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা হোক, আইনের সঠিক প্রয়োগ, বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ হোক। এগুলো সঠিকভাবে কাজ করলেই একটা দেশের স্বাধনীতার লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে।

মো. মাহাবুব হোসেন, শিক্ষার্থী 
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া কিংবা কারো করুণার দান নয়

আমাদের স্বাধীনতা হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া নয় কিংবা কারো করুণার দান নয়। আমাদের স্বাধীনতা এসেছে এক সমুদ্র রক্ত, লাখ নারীর সম্ভ্রম ও অসংখ্য ত্যাগের মাধ্যমে। আজ স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের এই গৌরবান্বিত ইতিহাস এবং সাহসী বীর ও বীরঙ্গনা পূর্বসূরিদের গর্ববোধ করি। এই অর্ধশত বছরে বদলে গেছে আমাদের বাংলার চিত্র। লক্ষণীয় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে দেশের সর্বস্তরে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে দেশ।

রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা স্বাধীন হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে আসলেই আমরা স্বাধীন কিনা সেটা নিয়ে ভাবনার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে বাক- স্বাধীনতা বা নিরাপত্তার ঘাটতি ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিভিন্ন সিন্ডিকেট এখনো রয়ে গেছে।

'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মের যতটা সচেতন, সাহসী, প্রতিবাদী ও সুশিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়ে অনেকটা পিছিয়ে। ফলে লাভবান হচ্ছে স্বার্থভোগী গোষ্ঠী। সমাজে বাড়ছে দুর্নীতি, নৈরাজ্য, অসম্প্রীতি। নিয়মিত বেড়ে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। ভুল তথ্য এবং গুজব বিশ্বাস করা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হুমকির মুখে পড়ছে আমাদের স্বাধীনতা।

আমাদের এই স্বাধীনতা রক্ষার দায় আমাদের সকলের। আমাদের সচেতনতা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও স্বাধীনতার চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করার মাধ্যমে আমরা সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারবো।

উপমা দত্ত, শিক্ষার্থী 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 

স্বাধীনতার ৫৩ বছরে  নারীর পরাধীনতা

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি আবেগময় শব্দ হলো স্বাধীনতা। সেই আবেগ কিছুটা স্মরণ করিয়ে দেয় কবি শামসুর রাহমানের “তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা” কবিতায়। সর্বদা স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সাহসী সংগ্রামের ইতিহাসের কথা। এই স্বাধীনতা শব্দের পেছনে লুকিয়ে আছে লক্ষ লক্ষ শহীদের জীবন ও হাজার হাজার বীরাঙ্গনার দুর্বিষহ জীবন চিত্র। আর এই মানুষ গুলোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা পৃথিবীর বুকে স্বাধীন বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রকে খুঁজে পেয়েছি।

স্বাধীনতা শব্দটি বলা যতটা সহজ কিন্তু এটি অর্জন করা ছিল তার থেকে অনেক গুন বেশি কঠিন। কিন্তু  এই স্বাধীন দেশে নারীদের কিছুটা স্বাধীনতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত করছে সংকীর্ণ গোঁড়া মানসিকতার সমাজ ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজের দিকে একটু গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে চোখে পড়বে কীভাবে ফুলের মতো প্রস্ফুটিত জীবন গুলো অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক নারী স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চেয়েও পরাধীনতার শিকলে বাঁধা পরছে। অথচ এই স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে পুরুষের মতো নারী অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। একজন নারীকে জীবনে সফলতা অর্জন করার জন্য পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়। আমাদের  দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।  সকলের সমান অধিকার ও সচেতনতাই নারীদের এই পরাধীনতার হাত থেকে বাঁচাতে।

আফসানা মিমি (তিশা) শিক্ষার্থী,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।


“স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে স্বাধীনতা  রক্ষা করার কঠিন।”

স্বাধীনতা একটা জাতির রক্ষাকবচ। স্বাধীনতা ছাড়া কেউ ভালোভাবে বাঁচতে পারে না। একটা পাখি যেমন খাঁচা তে বন্দি থাকলে ছটফট করে বাহিরের বের হওয়ার জন্য, ঠিক তেমনি মানুষ ও চায় স্বাধীন ভাবে বাঁচতে।

আমরা বাঙালি জাতি বৃটিশদের কাছে প্রায় দু’শ বছর, পশ্চিম পাকিস্তানিদের কাছে ২৩ বছর পরাধীন ছিলাম।তারা নিজেদের ইচ্ছামতো আমাদের দমন-পীড়ন করে রেখেছিল। আমাদের শিকল বন্দী করে রেখেছিল। কিন্তু বাঙালি এক বীরের জাতি।বীরের মত লড়াই করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে এনেছি।আমরা পেয়েছি লাল-সবুজ মানচিত্রের একটি দেশ। যার নাম বাংলাদেশ। 

কবির ভাষায়  “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।” কারণ নানা অপশক্তি বর্তমানে স্বাধীনতাকে হরণ করতে চায়, তারা চায় আবার পরাধীনতার শিকলে বন্দি থাকি আমরা।
পরিশেষে, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন যে সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে গেছেন । আমরা সকলে যার যার জায়গা থেকে সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাবো।

মো. আবির হাসান লিটন, শিক্ষার্থী 
লোকপ্রশাসন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, পদ ৬৮,…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
ভেসে আসা জাহাজ নিয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
এইচএসসি পরীক্ষার নতুন কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
  • ১২ মার্চ ২০২৬
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দিলে আন্দোলন…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
‘এমপি হতে অভিজ্ঞতা লাগে না, অথচ প্রতিষ্ঠান প্রধান হতে প্রয়ো…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
আনোয়ারায় মহিমের মৃত্যুর জের ৬ জনকে কুপিয়ে জখম
  • ১২ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081