পরিচয় জটিলতায় ৬ দিন পরেও মর্গে নারী সাংবাদিকের মরদেহ

০৭ মার্চ ২০২৪, ০৪:১৪ PM , আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৩ AM
বৃষ্টি খাতুন ওরফে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী

বৃষ্টি খাতুন ওরফে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী © সংগৃহীত

ঢাকার বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক বৃষ্টি খাতুন ওরফে অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর মরদেহ এখনও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মর্গে পড়ে আছে। অগ্নিকাণ্ডের ছয়দিন পার হলেও পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত সাংবাদিককে মেয়ে দাবি করা মা-বাবা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে পরিচয়দানকারী মা-বাবার ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, অভিশ্রুতি কিংবা বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম প‌শ্চিমপাড়া। সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম বৃষ্টি। তবে তার বায়োডাটায় দেখা গেছে তিনি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী।

মরদেহকে বৃষ্টি খাতুন দাবি করা শাবুরুল আলম সবুজ ওরফে সবুজ শেখ বলেন, সিআইডি অফিস থেকে এখনও ডিএনএ রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। রিপোর্ট আসার পরে পুলিশ মরদেহ বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে। তাই অপেক্ষায় আছি। এখন আমি রমনা থানায়। বৃষ্টি আমার মেয়ে। হস্তান্তর করলে আমরা মেয়ের মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়ার খোকসায় গ্রামের বাড়ি যাব এবং সেখানেই দাফন সম্পন্ন করব।

বৃষ্টির মা বিউটি বেগম ও তার খালা সাবানা খাতুন বলেন, বৃষ্টির মরদেহ পাওয়ার অপেক্ষায় আমরা ঢাকায় আছি। আমার মেয়েকে নিয়ে আমরা বাড়ি যাব। কিন্তু ডিএনএ রিপোর্ট হয়নি। এ জন্য আমাদের মরদেহ দেওয়া হচ্ছে না। বৃষ্টি খাতুন আমার মেয়ে। মেয়ের মরদেহের অপেক্ষায় প্রতিটি রাত নির্ঘুম কাটছে।

এর আগে পরিচয় নিশ্চিত হতে রোববার বাবা পরিচয়দানকারী শাবরুল আলম সবুজের নমুনা ও সোমবার দুপুরে মা পরিচয়দানকারী বিউটি বেগমের ডিএনএ-এর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর আসল নাম বৃষ্টি খাতুন। তিনি মুসলিম পরিবারের মেয়ে। বৃষ্টি ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। আমাদের হাতে থাকা তার জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তার নাম বৃষ্টি খাতুন। বৃষ্টিরা তিন বোন। বৃষ্টি বড়, তার মেজো বোন ঝর্না ও ছোট বোন বর্ষা। তার বাবা সবুজ ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি মেয়ের মরদেহ আনতে মর্গে গেছেন। কিন্তু তার বাবাকে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মরদেহ হস্তান্তর করা হলে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সহকর্মী তুষার হাওলাদারের সঙ্গে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন ওই নারী সাংবাদিক। সেসময় ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে মোট ৪৬ জনের। ওই নারী সাংবাদিকও রয়েছেন তাদের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে যাকে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে শনাক্ত করেন সহকর্মীরা।

তবে রমনা কালি মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা রমনা থানায় লিখিতভাবে দাবি করেন যে, মেয়েটি সনাতন ধর্মের। তার নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। তার বাড়ি ভারতে। শাস্ত্রী বিভিন্ন সময় কালীমন্দিরে এসে পূজা করতো। এতেই মরদেহ নিয়ে তৈরি হয় ধূম্রজাল। ফলে ডিএনএর মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজন পড়ে। এ কারণে ওই নারী সাংবাদিকের মরদেহ তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তাই ছয়দিন ধরে মর্গে পড়ে আছে তার মরদেহ।

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাবি ছাত্রদল নেতা আটক
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় কাউন্সিল করতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করবে বিএ…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
সেই মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্তে নামল স্বাস…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন দুই প্রতিমন্ত্রী
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাবি ছাত্রদল নেতাকে আটক, আজীবনের জন্…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ইবি কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচনে মঈদ বাবুল-তোজাম প্যানেলের ভূ…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬