সেই মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্তে নামল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৮ AM , আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ AM
মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন

মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন © টিডিসি ফটো

কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। শনিবার রাতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা) ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্পিতা নওশিনের অকাল মৃত্যুর প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ওপর। এছাড়া শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো ধরনের মানসিক চাপ, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পরীক্ষার ফলাফল ও উপস্থিতি রেকর্ড সংগ্রহ করে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা মূল্যায়ন করবে এই কমিটি।

জানা যায়, অর্পিতা নওশিন একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হওয়ার মতো নম্বর পাননি। গত ২ এপ্রিল আবারও ফরম ফিলাপের জন্য বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মানসিক চাপ সইতে না পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষে বিপুল পরিমাণ ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। বন্ধুরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে এক শিক্ষকের রোষানলে পরে ওই শিক্ষার্থী বার বার একই বিষয়ে ফেল করিছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী জানান, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেইল এসেছে। 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে।

খুলনা সদরের বাসিন্দা অর্পিতা নওশিন এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছিলেন ছোট। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। 

বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মাঝপথে বাতিল হলো বিশ্ববিদ্যালয়টির ফাইনাল প…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিরোধীদল কাউকে বিশ্বাস করছে না, আশা করি আমার ওপরে ভরসা রাখবে
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দুদিনেও শাহবাগ থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের গ্রেড উন্নয়নের সংশোধীত নীতিমালার বিষয়ে ন…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে প্রাইম ব্যাংক, আবেদন ৭ মে পর্যন্ত
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, সংসদে নিরাপত্তা চাইল…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬