২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংযুক্তা সাহার সনদ বাতিলের দাবি শিক্ষার্থীদের © টিডিসি ফটো
রাজধানীর গ্রীণ রোডের সেন্ট্রাল হসপিটালের ভুল চিকিৎসায় ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী মাহবুবা রহমান আঁখির ও তার নবজাতক মারা গেছেন। এ মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ডা. সংযুক্তা সাহা ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের সনদ বাতিলসহ মোট ৪ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ জুন) সেন্ট্রাল হসপিটালের সামনে আয়োজিত সংবাদ মানববন্ধনে এসব দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, মাহবুবা রহমান আঁখিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও মাহবুবুর রহমান আঁখির স্বামীকে আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এসময় তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো—
১. ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে নবজাতক ও আঁখি কে হত্যাকারী ডাক্তার সংযুক্তা সহ জড়িত ডাঃ দের লাইসেন্স বাতিল করে , গ্রেফতার করতে হবে।
২. সেন্ট্রাল হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল করে পরিচালক কে গ্রেফতার করতে হবে।
৩. দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মনিটরিং সেল গঠন এর মা

ধ্যমে সকলের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সেন্ট্রাল হাসপাতাল আঁখির পরিবারকে ২কোটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এসব দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে বলেও জানান তারা।
আরও পড়ুন: আঁখির বাবার কবরের পাশে শায়িত হবেন মা-ছেলে
জানা গেছে, এর আগে প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হসপিটালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় মাহবুবা রহমান আঁখিকে। কিন্তু ডা. সংযুক্তা সাহার বদলে ওই নারীর ডেলিভারি করতে যান ডা. মিলি।
এ সময় ডা. মিলি ওই প্রসূতির পেট কাটতে গিয়ে মূত্রনালি ও মলদ্বার কেটে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অজ্ঞান অবস্থায় সিজার করে বাচ্চা বের করা হয়। এতে বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে।
এরপর রোববার (১৮ জুন) রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর পর মা ইডেন কলেজছাত্রী মাহবুবা রহমান আঁখিও মারা গেছেন।