আজও বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠেছে ঢাকা। © সংগৃহীত
দূষণের সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে ঢাকার বায়ু। শহরের বাতাস আজও বিপজ্জনক। আজও বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠেছে ঢাকা। গতকালও (শুক্রবার) ঢাকার বায়ু ছিল বিপজ্জনক, স্কোর ছিল ৩৩৫। আইকিউ এয়ারের দূষিত শহরের তালিকার বিপজ্জনক শ্রেণিতে রয়েছে ঢাকা।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৩২৯ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘বিপজ্জনক’। পরের অবস্থানে, বিপজ্জনক শ্রেণিতে রয়েছে ঘানার আক্রা। ২১৩ স্কোর নিয়ে এর পরের স্থানে রয়েছে চীনের বেইজিং। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, স্কোর ২০০। ১৮৮ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে মুম্বাই, স্কোর ১৮৭।
সুইজারল্যান্ডের বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষক সংস্থা একিউএয়ারের তথ্য বলছে, জানুয়ারি মাসে একদিনের জন্যও অস্বাস্থ্যকর অবস্থা থেকে নামেনি ঢাকার বায়ু। বরং বেশ কয়েকদিনই ঢাকার বায়ুমান ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে। এর ধারাবাহিকতা চলছে ফেব্রুয়ারিতেও।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ “ভালো” হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ “মাঝারি” হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য “অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, যেখানে ৩০১ থেকে ৪০০ এর স্কোর ‘বিপজ্জনক’ বলে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।
আরও পড়ুন: আজ খুলছে মেট্রোরেলের উত্তরা সেন্টার স্টেশন
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো: ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণকাজ, রাস্তার ধুলা ও অন্যান্য উৎস থেকে দূষিত কণার ব্যাপক নিঃসরণের কারণে ঢাকা শহরের বাতাসের গুণমান দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।
এর আগে শীতকালজুড়ে (ডিসেম্বর ও জানুয়ারি) ঢাকার বায়ু ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’ বা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায়। প্রায় প্রতিদিনই দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।