ট্রাম্পের ‘অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার নেপথ্যে কী

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ PM
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প © টিডিসি ফটো

পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য কোনো অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও একতরফা ঘোষণার নেপথ্যে গভীর কোনো কৌশল বা পরাজয় লুক্কায়িত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

যুদ্ধে পরাজয় মেনে নেওয়ার সংকেত
ট্রাম্পের এই ঘোষণার একটি বড় অর্থ হতে পারে, তিনি এই যুদ্ধে কার্যত হেরে গেছেন। যুদ্ধের সময় সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করেও মার্কিন প্রশাসন সফল হতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই এই পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসাই এখন তার জন্য সেরা পথ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এমনকি তিনি যদি পুনরায় যুদ্ধের মতো কোনো ‘বোকামি সিদ্ধান্ত’ নেন, তাতেও কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

প্রতারণার নতুন কৌশল ও বিভ্রান্তি
যুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান সাফল্য না পেলেও ট্রাম্প এখন বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে তিনি একদিকে শান্তির কথা বলছেন, কিন্তু নেপথ্যে ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রশাসন কিংবা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলকে দিয়ে কোনো সন্ত্রাসী হামলা চালানো হতে পারে। তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এই ‘সম্ভাবনাকে মোটেও ছোট করে দেখছেন না’।

ইসরায়েলকে যুদ্ধে রেখে সটকে পড়ার চেষ্টা
আরেকটি জোরালো সম্ভাবনা হলো, যুক্তরাষ্ট্র নিজে সরাসরি যুদ্ধ থেকে সটকে পড়ে ইসরায়েলকে এই সংঘাতে আটকে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতকে কাজে লাগানো হতে পারে। তবে ইরান ও তার মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছে যে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গিয়ে ইসরায়েলকে দিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে না। এমন পদক্ষেপ নিলে তার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

নৌ-অবরোধ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ
ইরানের ওপর এখনো নৌ-অবরোধ বহাল রাখা হয়েছে, যার অর্থ হলো শত্রুতা জিইয়ে রাখা। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ থাকবে, ততক্ষণ ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও ইরান এই অবরোধ ভেঙে দেবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের ওপর যুদ্ধের ছায়া বজায় রেখে দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিকে একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখতে।

ইরানকে ঝুলিয়ে রাখার মার্কিন পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতি ‘১২ দিনের যুদ্ধের পরের অবস্থার মতোই’। তবে তারা একটি মৌলিক পার্থক্য ভুলে যাচ্ছে, আর তা হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের বর্তমান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। আমেরিকা যদি যুদ্ধের হুমকি বজায় রেখে ইরানকে চাপে রাখতে চায়, তবে তাদের জেনে রাখা উচিত যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ইরান এখন আর আগের মতো কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে নেই, বরং কৌশলগতভাবে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে।

তথ্যসূত্রঃ তাসনিম নিউজ 

 

ভারতে এমপি আনার খুনের দুই বছর—তদন্তে নেই অগ্রগতি
  • ১৩ মে ২০২৬
৮ বছর পর সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে রায়…
  • ১৩ মে ২০২৬
হামের চিকিৎসায় সরকারকে ১০টি ভেন্টিলেটর দিল রেডিয়েন্ট
  • ১৩ মে ২০২৬
যক্ষ্মা চিকিৎসায় এক কোটি ৭০ লাখ অ্যান্টি-টিবি ওষুধ কিনবে সর…
  • ১৩ মে ২০২৬
আট বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন জবি শিক্ষার্থীরা
  • ১৩ মে ২০২৬
ওয়ালটনের আরও ৪ মডেলের স্মার্ট ওয়াশিং মেশিন উন্মোচন
  • ১৩ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9