‘এই হোটেলে খাওয়া নিষেধ সুইপারের’ লেখা কাগজ © সংগৃহীত
পেশায় সুইপার (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) হওয়ায় হরিজন সম্প্রদায়ের এক কিশোরকে বসে খেতে না দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘এই হোটেলে খাওয়া নিষেধ সুইপারের’ লেখা এক টুকরো কাগজ!
শনিবার (১ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর কাচারিবাজারে মৌবন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জীবন বাসফোর (১৬) কাচারিবাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।
জানা যায়, গত শনিবার (১ অক্টোবর) নগরীর কাচারিবাজারে মৌবন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খেতে যায় স্কুলছাত্র জীবন বাসফোর। হোটেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ‘এই হোটেলে খাওয়া নিষেধ সুইপারের’ লিখে তার হাতে ধরিয়ে দেয় এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা। এছাড়া এর প্রতিবাদে সোমবার (৩ অক্টোবর) মানববন্ধন করেছে হরিজন অধিকার সংগঠন।
আরও পড়ুন: এনজিওতে ম্যানেজার পদে চাকরি, শুরুতেই বেতন ৬৮ হাজার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৌবন হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব হোসেন বলেন, আমার জানামতে, রংপুর শহরে কোনো হোটেলেই হরিজন সম্প্রদায়ের লোক বসে খাবার খায় না। হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশন যদি তাদের হোটেলে বসে খাওয়ার অনুমতি দেয়, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, শনিবার রাতে আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দুই পক্ষ বসে বিষয়টি মিটমাট করতে চেয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয়ভাবে সুইপার নামে পরিচিত হরিজন সম্প্রদায়ের লোকদের প্রধান পেশা পরিচ্ছন্নতার কাজ। তাঁরা সাধারণত পয়োনিষ্কাশন নালা ও ল্যাট্রিন পরিষ্কারের কাজ করেন।