চবির সংঘর্ষের ঘটনার ফ্যাক্ট-চেক ও প্রসঙ্গ

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৩৪ AM , আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:০৪ PM
সাবিনা আহমেদ

সাবিনা আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত

আজ (৩১ আগস্ট ২০২৫) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার উৎপত্তি গতকাল রাতে (৩০ আগস্ট) একজন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ থেকে, যা পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে অন্তত ৫০-৬০ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষার্থী, প্রো-ভিসি, প্রক্টর এবং স্থানীয় লোকজন রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, যেমন একজন শিক্ষার্থীকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এবং তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল, রামদা এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। 
  
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন দুপুর ২টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যা আগামীকাল রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা পর্যাপ্তভাবে হস্তক্ষেপ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 
  
এই ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক উদয় কুসুম বড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিএনপি তাকে আজ দল থেকে বহিষ্কার করেছে, যা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার  করে। 
  
এছাড়া, আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগের সদস্যরাও জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। এই সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনের অক্ষমতাকে তুলে ধরেছে। অনেকে বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পরও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এই ধরনের ঘটনাকে উস্কে দিচ্ছে। 
  
সবার মধ্যে দারুণ অস্থিরতার কাজ করছে। যেই বিপ্লবটা গত জুলাইয়ে শুরু হয়েছিল, তা অমীমাংসিত। যার কারণে ছাত্ররা ব্যাকুল আর আকুল। যেই পরিবর্তন আর সংস্কারের আশা তারা দেখেছে তা সব ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এই অসম্পূর্ণ পরিবর্তন আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। 
  
২০২৪-এর ছাত্র-বিপ্লবে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু বাকি সবকিছু আধা-আধুরা অবস্থায় রয়ে গেছে। এই “আধা-অধুরা” অবস্থায় প্রশাসন দুর্বল, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে, এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী হচ্ছে। যদি বিপ্লব সম্পূর্ণ হতো—যেমন রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ—তাহলে এমন নৈরাজ্য হতো না। 
  
ইতিহাসে দেখা যায়, অসম্পূর্ণ বিপ্লব প্রায়ই পুরনো শাসনের প্রত্যাবর্তন ঘটায়। চবির ঘটনা প্রমাণ করে যে বিপ্লবকে অর্ধেক করে থামালে তা শুধু মরে না, বরং নতুন রক্তপাতের জন্ম দেয়।


লেখক: সাবিনা আহমেদ

মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বিশ্লেষক।

ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত মার্টিনেজকে মাঠ থেকে সরাসরি পাঠানো হলো হা…
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
এসএসসি: কোন বিভাগের ফরম পূরণের ফি কত
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যে ৬ নির্দেশনা জানা জরুরি
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
‘সারা দেশে আমিই একমাত্র মেয়ে যে গেজেট থেকে বাদ পড়েছি’— দুই …
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬