© প্রতীকি ছবি
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষা মাধ্যমে এবারের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির দাবি জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, অটোপাশ দিয়ে যেহেতু এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। তাই ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ ২০০ নম্বর করা হলে অনেকে ভালো প্রস্তুতি নিয়েও শুরুতেই ঝরে পড়বে। সে কারণে জিপিএ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগের দাবি তদের।
বিষয়টি নিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ‘জিপিএ ছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা চাই’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপও খুলেছেন। সেখানে তারা জিপিএ বাদ দিয়ে এবারের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে নানা যুক্তি তুলে ধরছেন। তাছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধন-স্মারকলিপি এবং আইনী সহায়তা নেয়ার কথাও ভাবছেন তারা।
তথ্যমতে, করোনার কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকার। গত ৭ অক্টোবর ভার্চুয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গড় করে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বরে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজে ভর্তির বিষয়টি সামনে উঠে আসে। এ নিয়ে গত ২২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের নিয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি, এমসিকিউ ও উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বর কমানোসহ বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
সভা সূত্র জানায়, প্রতিবার ২০০ নম্বরে ভর্তি পরীক্ষা হলেও এবার পূর্ণমান থাকবে ১০০। এরমধ্যে লিখিত ৫০, এমসিকিউ ৩০ ও বাকি ২০ নম্বর থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টের উপর। বিগত বছরে উচ্চমাধ্যমিক থেকে রেজাল্টের উপর ৮০, এমসিকিউ নম্বর ৭৫ আর বাকি নম্বর ছিলো লিখিত পরীক্ষায়। এরপর চট্টগ্রাম, ইসলামী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা করে।
এদিকে, গত ২ নভেম্বর দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে সেখানে ভর্তি পরীক্ষায় পরিবর্তনের কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর।
তাদের মতে, আমরা যারা গত দুই বছর কঠোর পরিশ্রম করেছি, অটোপাশে তাদের এইচএসির ফল ভালো হবে না। ফলে মেডিকেলে জিপিএ ২০০ নম্বর থাকলে আমরা পিছিয়ে যাবো। দেখা গেছে, অনেকের স্বপ্নই, সে ডাক্তার হবে। জিপিএ বাড়ানোর কারণে তারা শুরুতেই ঝড়ে পড়বে। তাই আমাদের জিপিএ নয়, সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তি নেয়া হোক।
নুরিয়া নূর নামে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি, তাই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ ২০০ নম্বর রাখাটা যুক্তি সঙ্গত হয়নি। তাই মেডিকেল যাদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ১০ থাকবেনা তারাতো পিছিয়ে পড়বো। তাই রাখা হলেও সবোর্চ্চ ১০০ রাখ যায়। এবার ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায়ও জিপিএ নম্বর কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
তানভির আহমেদ শাউন নামে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদেরকে এইচএসসিতে অটোপাশ দেওয়া হয়ছে। কিন্তু আমরা অনেকে মেডিকেলে পড়াশোনা করব বলে গত দুই বছর কঠোর পরিশ্রম করেছি। যাদের জেএসসি ও এসএসসিতে ভালো ফল ছিল না, তাদেরতো এইচএসসিতে ফল ভালো হবে না। তাই মেডিকেলে জিপিএ ২০০ নম্বর ধরা হলে তারা পিছিয়ে যাবো। ২০০ থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ করা হোক।
রেহনুমা জান্নাত ফাহি নামে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, আমার জেএসসিতে জিপিএ ৪.১৭ আর এসএসসি ৫.০০। এজন্য এইচএসসিতে আমার পয়েন্ট কম আসবে। তবে প্রস্তুততি অনেক ভালো। তাই আমরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএর নম্বর কমানো কিংবা বাদ দেয়ার দাবি জানায়।
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়নের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি।