প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ © টিডিসি সম্পাদিত
শনিবার (৭ নভেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে ‘পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের ২৩ দিন পর ‘পাস’ দেখানো হলো তিন মেডিকেলের ৪ শিক্ষার্থীকে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেব এই প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করেন।
প্রতিবাদলিপিতে সংবাদ প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অসঙ্গত তথ্যবহুল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পরীক্ষার্থী কর্তৃক গৃহিত আবেদনপত্রের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ৩ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের সমন্বয়ে পুনঃনিরীক্ষণ কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং পুনঃনিরীক্ষণ কমিটির প্রদত্ত প্রতিবেদন অনুসারে ৪ জন শিক্ষার্থীর সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করেছে।’
অসপি এবং লিখিত (স্যাক) ভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে এতে বলা হয়, মেডিসিন বিষয়ের অসপি পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৬৩ জন এবং সার্জারি বিষয়ের লিখিত পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। আবেদনপত্র গ্রহণের ধারাক্রম অনুসারে ১১ অক্টোবর মেডিসিন বিষয়ের অসপি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল এবং ২ নভেম্বর সার্জারি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। একই বিষয়ের দুইবার পুনঃনিরীক্ষাও হয়নি এবং একই বিষয়ের দুইবার ফলাফলও প্রকাশিত হয়নি। ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ না করেও সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দায় নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রতিবাদলিপিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখিত বক্তব্য এবং পূর্বে প্রচারিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের বক্তব্য প্রায় একই। তার বক্তব্যটি ওই সংবাদ প্রতিবেদনে হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।
তবে তার বক্তব্য এবং প্রতিবাদলিপিতেও ১১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফল এবং ২ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলের নোটিশের অসঙ্গতি নিয়ে কিছু বলা হয়নি। চমেবি কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘১১ অক্টোবর মেডিসিন বিষয়ের অসপি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল এবং ২ নভেম্বর সার্জারি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। একই বিষয়ের দুইবার পুনঃনিরীক্ষাও হয়নি এবং একই বিষয়ের দুইবার ফলাফলও প্রকাশিত হয়নি। ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।’
কিন্তু গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস নভেম্বর-২০২৫ ইং পরীক্ষার মেডিসিন ও সার্জারি বিষয়ের অসপি-এর উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমাকৃত নিম্নতালিকাভুক্ত আবেদনসমূহের পুনঃনিরীক্ষন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’ এতে আরও বলা হয়েছে, ‘চুড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস নভেম্বর-২৫ লিখিত ও অসপি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল নিম্নরূপ:’।
অপর দিকে ২ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে কেবল সার্জারি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ৪ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। প্রতিবাদলিপি এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের এই দাবির সঙ্গে ওই নোটিশের মিল পাওয়া গেলেও ১১ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে মেডিসিন ও সার্জারি এবং অসপি ও লিখিত—দুটি বিষয় ও দুটি পদ্ধতির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রকাশিত প্রতিবেদনে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. সৈয়দ হাসানুল হক বান্না বলেছিলেন, ‘রি-স্ক্রুটিনিতে যারা পাস করে, তাদেরটা প্রকাশ করা হয়। যাদের নম্বর অপরিবর্তিত থাকে, তাদেরটা আর প্রকাশ করা হয় না।’ যদিও ১১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে আবেদনকারী ৬৩ জনেরই ফল অপরিবর্তিত এসেছিল, তবুও তাদের ফল উল্লেখ করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদলিপিতে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
একই সাথে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে কোনো অসত্য, বিভ্রান্তিকর কিংবা অসঙ্গত তথ্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিভিন্ন কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন লেখা হয়েছে।