চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (চমেবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত ২৩ সেপ্টেম্বর। এরপর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের পর তারও ফল প্রকাশ হয়েছে অক্টোবরের ১১ তারিখ। তার ২০ দিন পর গত ২ নভেম্বর হঠাৎ পৃথকভাবে তিন বেসরকারি কলেজের চার শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তীর্ণ ওই চার শিক্ষার্থী হলেন—চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের উদয়ন চৌধুরী অনিক ও শাফায়েত উন নবী, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের অনুপ কান্তি দাস এবং বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের জয় দাস কৃপা। ওই তিন কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারজনই বিভিন্নভাবে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত। উদয়ন চৌধুরী অনিক এবং শাফায়েত উন নবীর পদ-পদবি না থাকলেও তারা মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেলে ‘ছাত্রদল নেতা’ হিসেবেই পরিচিত।
কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর নভেম্বর-২০২৫ সেশনের চূড়ান্ত পেশাগত (প্রফ) এমবিবিএস পরীক্ষা শুরু হয় গত ১৭ মে। লিখিত, অসপি এবং ক্লিনিক্যাল ও ভাইভা পরীক্ষা শেষে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এর ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। ওই পরীক্ষায় সার্জারিতে অকৃতকার্য হন এই চার শিক্ষার্থী।
ওই ফলাফলের পর পুনঃনিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে তা যাচাই-বাছাই শেষে গত ১১ অক্টোবর ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মোট ৬৩ জন শিক্ষার্থীর পূর্বের ফল ‘অপরিবর্তিত’ বলা হয়। তবে ওই তালিকায় উদয়ন চৌধুরী, শাফায়েত, অনুপ কান্তি এবং জয় দাসের নাম ছিল না। গত ২ নভেম্বর পৃথক নোটিশে তাদের ফল পরিবর্তন করে ‘উত্তীর্ণ’ বলে জানানো হয়।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা স্ক্রুটিনির জন্য আবেদন করলে তার রেজাল্ট দেওয়া হবে। এটা স্বাভাবিক। আলাদা করে কোনো রেজাল্ট হওয়ার কথা না— অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম, রেজিস্ট্রার, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এদিকে ওই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ৮ নভেম্বর। ওই চার শিক্ষার্থীর কেউ কেউ সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য ফর্ম ফিলআপও করেছেন। এরই মধ্যে তাদের পাস দেখানো নিয়ে বিস্মিত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া তাদের উত্তীর্ণ করার পেছনে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) কমিটি গঠনের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে কিনা—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ক্লাস উপস্থিতির শর্ত পূরণ না করেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
হঠাৎ করে ‘পাস’ হওয়া চার শিক্ষার্থীর মধ্যে শাফায়েত উন নবী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য ছিলেন না। অংশগ্রহণের জন্য ক্লাসে উপস্থিতির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত হলেও তিনি শর্ত পূরণ করতে পারেননি। এমনকি তার চেয়ে এগিয়ে থাকা কোনো কোনো শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তাকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে ক্লাস এবং ওয়ার্ড ফাইনালে পৃথকভাবে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির হার নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে শাফায়েত উন নবীর গাইনি অ্যান্ড অবসের ক্লাসে উপস্থিতি ৬৯ শতাংশ হলেও ওয়ার্ড ফাইনালের উপস্থিতি ছিল ৩৯ শতাংশ। অথচ ক্লাসে ৭৫ শতাংশ এবং ওয়ার্ড ফাইনালে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি নিয়েও একজনকে পরীক্ষায় বসতে সুযোগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
পঞ্চম বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পরীক্ষার আগে ক্লাসে উপস্থিতির শর্ত পূরণ না করায় ১৪ জনকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে ফরম পূরণ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর শাফায়েত উন নবীর উপস্থিতি ভুল এসেছে দাবি করে তাকে ‘এলিজিবল’ বা যোগ্য করানো হয়।
পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের ২৩ দিন পর কীভাবে পাস হলেন
গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে উদয়ন চৌধুরী অনিক ও শাফায়েত উন নবী, অনুপ কান্তি দাস এবং জয় দাস কৃপাকে সার্জারিতে ‘রেফার্ড’ করা হয়। অর্থাৎ সার্জারিতে তারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ওই ফলের ভিত্তিতে অনুত্তীর্ণ ৬৩ জন পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। গত ১১ অক্টোবর ওই আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে তাদের পূর্বের রেজাল্ট অপরিবর্তিত রাখা হয়। ওই তালিকায় এই চার শিক্ষার্থীর নাম ছিল না। একটি সূত্রের দাবি, তারা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদনই করেননি।
ওনারা অনেকেই আবেদন করেছেন। এরপর রেগুলেশন অনুযায়ী বোর্ড গঠন করে নিয়ম অনুযায়ীই সব কিছু করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যারা পাস করেছে, তাদেরটা আমরা প্রকাশ করেছি। বোর্ড তাদের উত্তীর্ণ বলে জানিয়েছে, আমরা শুধু প্রকাশ করেছি— মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
১১ অক্টোবর প্রকাশিত পুনঃনিরীক্ষণের ফলে চমেবির উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সই করেন। ওই অফিস আদেশে বলা হয়, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস নভেম্বর-২০২৫ ইং পরীক্ষার মেডিসিন ও সার্জারি বিষয়ের অসপি-এর উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমাকৃত নিম্নতালিকাভুক্ত আবেদনসমূহের পুনঃনিরীক্ষন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনরূপ ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের পূর্বের ফলাফল অপরিবর্তিত রয়েছে।’
পরের বাক্যে লেখা হয়েছে—‘চুড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস নভেম্বর-২৫ লিখিত ও অসপি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল নিম্নরূপ:’।
এদিকে গত ২ নভেম্বর চারজনকে উত্তীর্ণ করে দেওয়া নোটিশেও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সই করেছেন। উভয় নোটিশে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেবের স্বাক্ষর নেই, তবে ‘স্বাক্ষরিত’ লেখা আছে।
২ নভেম্বর ইংরেজিতে দেওয়া নোটিশটি লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ২৩.০৯.২০২৬ তারিখের স্মারক নম্বর CMU/Exam/MBBS/Final/Result/26/1069 মূলে প্রকাশিত ফাইনাল প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষা, নভেম্বর-২০২৫ এর ফলাফল শীটের নিম্নলিখিত পরীক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে ফলাফল সংশোধন বা পরিমার্জন করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।’
এক্ষেত্রে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে ‘অসপি’ এবং ‘লিখিত’ পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের কথা বলা হলেও ২ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে কোন পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে তা সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়নি।
রি-স্ক্রুটিনিতে যারা পাস করে, তাদেরটা প্রকাশ করা হয়। যাদের নম্বর অপরিবর্তিত থাকে, তাদেরটা আর প্রকাশ করা হয় না— ডা. সৈয়দ হাসানুল হক বান্না, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়,
শাফায়েত উন নবীর সহপাঠীদের কয়েকজন তার ফলাফল দেখেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, সার্জারির লিখিত পরীক্ষায় শাফায়েত উন নবীর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১১১, যেখানে পাস নম্বর ১২০। ১১১ থেকে ১২০ কীভাবে হলো, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাদের।
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ওই চারজনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি এই ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা চলাকালে ছয় ছাত্রদল নেতার নম্বর টেম্পারিংয়ের ঘটনাতেও গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নতুন করে উত্তীর্ণ করার ঘটনায় কয়েক লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। এতে ছাত্রদল ও ড্যাবের কয়েকজন নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত।
শাফায়েত উন নবীর অপর এক সহপাঠীর দাবি, মূলত ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের পাস করা হয়েছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রদলে অনেকে যুক্ত হলেও সিনিয়রদের সরাসরি যুক্ত করা হয়নি। বরং তাদের আইডিএর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শাফায়েত এরকম একজন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইডিএর কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আরও দেড় মাস আগে আইডিএর কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও তারা বিভিন্ন অজুহাতে কমিটি আটকে রেখেছে। এতদিন তার আইডিএতে আসার সুযোগ ছিল না, এখন সে নেতৃত্ব দিতে পারবে। এমনকি গতকাল তারা একটি সেকশনে তাকে জয়ী করেছে। এখন সামনে আরও তিনটি সেকশন আছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, পুনরায় চার শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করে ফল প্রকাশে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেব সম্মত ছিলেন না। তবে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের অনুপ কান্তি দাস এবং বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের জয় দাস কৃপার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের উদয়ন চৌধুরী অনিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শাফায়েত উন নবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন এবং তার ভিত্তিতে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এ সময় গাইনি বিভাগের মার্কশিট অনুযায়ী তিনি যোগ্য ছিলেন না উল্লেখ করা হরে শাফায়েত উন নবী বিরক্তি প্রকাশ করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি আমার পিছনে কেন লাগছেন, আমি বুঝতেছি না। আমার পিছনে লাগার কি আছে এখানে। আমি একটা সাধারণ স্টুডেন্ট। গত পাঁচ বছর ধরে পড়াশোনা করে, সবগুলো প্রফ পাস করে আসলাম। আর আপনি এই ফিফত ইয়ারে এসে কেন এই কথাগুলা জিজ্ঞেস করতেছেন? আপনি আমার পিছনে লাগছেন, আমার ইনফরমেশন সব কালেক্ট করছেন।’
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কে পাস করেছে না করেছে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। আর এলিজিবিলিটি ছাড়া কেউ পরীক্ষা দিতে পারবে না। এলিজিবিলিটি ছিল। আমাদের এখানে এলিজিবিলিটি ছাড়া পরীক্ষায় বসার সুযোগ নাই। মার্কশিটে ক্লাসের পার্সেন্টেজ থাকে না বলেও দাবি করেন তিনি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা স্ক্রুটিনির জন্য আবেদন করলে তার রেজাল্ট দেওয়া হবে। এটা স্বাভাবিক। আলাদা করে কোনো রেজাল্ট হওয়ার কথা না বলেও জানান তিনি। তবে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলেন।
যোগাযোগ করা হলে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. সৈয়দ হাসানুল হক বান্না দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যারা আবেদন করেছে, তাদের পুনঃনিরীক্ষণ-পর্যবেক্ষণ করে পুনরায় রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যদি মনে করে, তারা ভালো লিখেছে, কোনো ভুল হয়েছে কিনা নম্বর যোগের ক্ষেত্রে, তারা আবেদন করে। আমরা পরে বোর্ড গঠন করে আবার যাচাই করা হয়, তারা যাচাই-বাছাই করে আবার ঠিক করে। হতে পারে গতবারই পাস করেছে, কিন্তু নম্বর যোগ কার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে।
কে পাস করেছে না করেছে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। আর এলিজিবিলিটি ছাড়া কেউ পরীক্ষা দিতে পারবে না। এলিজিবিলিটি ছিল। আমাদের এখানে এলিজিবিলিটি ছাড়া পরীক্ষায় বসার সুযোগ নাই। মার্কশিটে ক্লাসের পার্সেন্টেজ থাকে না— অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া, অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ
তিনি বলেন, রি-স্ক্রুটিনিতে যারা পাস করে, তাদেরটা প্রকাশ করা হয়। যাদের নম্বর অপরিবর্তিত থাকে, তাদেরটা আর প্রকাশ করা হয় না। তবে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত পুনঃনিরীক্ষণের ফলে ‘অপরিবর্তিত’ পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে, এ বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, হতে পারে তারা রেগুলার পরীক্ষার্থী। আসলে যারা অপরিবর্তিত থাকে, তাদেরটা আমরা প্রকাশ করি না।
জানতে চাইলে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ওনারা অনেকেই আবেদন করেছেন। এরপর রেগুলেশন অনুযায়ী বোর্ড গঠন করে নিয়ম অনুযায়ীই সব কিছু করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যারা পাস করেছে, তাদেরটা আমরা প্রকাশ করেছি। বোর্ড তাদের উত্তীর্ণ বলে জানিয়েছে, আমরা শুধু প্রকাশ করেছি।
১১ অক্টোবর প্রকাশিত পুনঃনিরীক্ষণের ফল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ১১ অক্টোবরের ফলটি অসপির এবং ২ নভেম্বরের পরীক্ষাটি লিখিত অংশের বলে দাবি করেন তিনি।