বদলে যাচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের চিত্র, একনেকে ১১৫৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ PM
ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ © সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে প্রণীত প্রায় ১১৫৫ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সালের আগস্ট পর্যন্ত, যাতে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার টাকা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ’ শিরোনামের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য নতুন পাঁচটি ভবন নির্মাণ করা হবে। এগুলো নির্মাণ করা হবে একাডেমিক এবং শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের আবাসনের জন্য।

বর্তমান একাডেমিক ভবন এলাকা এবং বকশিবাজারে ছাত্রদের আবাসিক ভবন এলাকা ঘিরে এসব ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা আবাসিক কোয়ার্টার ভবন, একটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ৮০০ আসনের শিক্ষার্থী হোস্টেল, বেজমেন্টসহ ১৫ তলা একাডেমিক ভবন, ৩০০ আসনের চারটি লেকচার থিয়েটার, ৩০০ আসনের দুটি পরীক্ষা কক্ষসহ চারতলা সার্ভিস ভবন, ৮০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতার চারতলা মসজিদ, অন্যান্য অনাবাসিক ভবন ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও কালভার্ট, সেন্ট্রি পোস্ট, ওয়াকওয়ে, ফুটপাত ও কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে ১৫ তলা একটি আবাসিক ভবন ও একটি হোস্টেল ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৯ কোটি টাকা। আরেকটি ১৫ তলা ভবন ও দুটি ৪ তলা ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: অনুমোদনের অপেক্ষায় ১২০০ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিত্র

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বতী সরকারের সময় প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পটির বিষয়ে তখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র ৬ মাসের মাথায় প্রকল্পটি পাস করা হলো।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় মাস্টারপ্ল্যানটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের অভাব দূর হবে।

এর আগে সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলগুলো মেরামতের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার সুযোগ বাড়াতে একাডেমিক ভবন, হোস্টেল, লেকচার থিয়েটার, এক্সাম হল, প্রার্থনা কক্ষ ও অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হবে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থাপত্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নিয়ে ‘স্বপ্নসাক্ষর’ নামে ২৫ হাজার কোটি টাকার বড় একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশাল এ প্রকল্পের স্বপ্ন দেখিয়ে হাসপাতালের পাশাপাশি ঢামেকের সব ধরনের উন্নয়ন আটকে রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে ঢামেকে চারটি হল রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রীদের ডা. আলিম চৌধুরী ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডা. মিলন হল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত। ছাত্রদের ডা. ফজলে রাব্বি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডা. মিলন হল বকশিবাজারে অবস্থিত। স্বপ্নসাক্ষর প্রকল্পের কথা বলে ছোটখাটো কোনো সংস্কারও হয়নি এ হলগুলোতে। ফলে স্বল্প সংখ্যক আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কারের ছোঁয়া না পড়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ছেলেদের হলগুলো। এ ছাড়া ১৯৫৫ সালের দিকে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিও অনেকাংশে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলেও জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ৪ বছরের প্রকল্পের ৩ বছর শেষ, ‘সিস্টেম লসে’ অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ

তারা বলছেন, দেশের পুরনো আটটি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ঢামেক ছিল সবচেয়ে অবহেলিত। এতে পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ হোস্টেলে দীর্ঘদিন বাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একই সাথে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস-পরীক্ষাও।

উল্লেখ্য, বুধবার একনেক সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের প্রকল্প রয়েছে দুটি। এ খাতের অপর প্রকল্পটি হলো ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী। এতে ২০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

সভায় স্বাস্থ্য খাত ছাড়াও সড়ক, নৌপরিবহন, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অনুমোদিত ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮ লাখ টাকা।

একনেক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রমুখ অংশ নেন।

এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে স্কয়ার গ্রুপ, আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর পর…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
মওলানা ভাসানীর একটি স্মৃতিও নষ্ট হতে দিব না: মাভাবিপ্রবি ভি…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
কলকাতায় হোটেলে আগুন, বাংলাদেশিদের জন্য হেল্পলাইন
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন, দোষ…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
৮ মাসে হাতে সম্পূর্ণ কোরআন লিখলেন জান্নাত
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
স্বার্থ ও শর্ত ছাড়া ভারত আমন্ত্রণ জানালে স্বাগত জানাবে বাংল…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬